ডারউইনে দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশ দাপট
দলীয় রান তিনশ পার হওয়ার পরপর ছোট্ট একটা ধস। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শক্ত জবাব যেন ম্লান হতে বসেছিল। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দুজন মিলেই দিন শেষ করেছেন। অবশ্য দিনের শেষটা হয়েছে মিরাজের জীবন পেয়ে। নয়তো ছয় নয়, সাত উইকেট থাকত বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৮০ ওভার শেষে নতুন বল হাতে পেয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ফেলেছিল। ১১ রানে বাংলাদেশ তিন উইকেট হারায়। তবে হাসান মাহমুদ একমাত্র অবশিষ্ট স্বীকৃত ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে লিড দেড়শ ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের লিড ১৫৩ রানের।
দিনের শুরুতে তানজিদ ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর শান্ত ও তানজিদ দলকে এগিয়ে দেন। ১৮৮ বলে চমৎকার সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ মাঠ ছাড়লেও বাংলাদেশ বড় লিড নেওয়ার আভাস দিচ্ছিল। শান্ত ছিলেন সেঞ্চুরির কাছে। কিন্তু ৮৪-তে অধিনায়কের আউটের পর বিস্ময়করভাবে বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা।
৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারায়। নতুন বলে ১১ রানে তাদের তিন ব্যাটারের পতন হয়। ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার মিরাজ ও হাসান ১৪৭ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লিড বাড়াচ্ছেন।
এই জুটির আগে নতুন বল হাতে নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউড শান্তকে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ বানান। অজি পেসারের এক্সট্রা বাউন্সে বল তার ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়ে। ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সাজানো ছিল অধিনায়কের ১৬ রানের আক্ষেপে ভাসানো ইনিংস।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দলে জায়গা পাওয়া লিটন দাস ডাক মারেন। দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পর মুশফিকের সঙ্গ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে এই উইকেটকিপার ব্যাটার। স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বল থিক এজ হয়ে ফের স্মিথের হাতে পড়ে। মুশফিক সেট হওয়ার আভাস দিলেও ফিরতে হয়। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের শিকার হন তিনি। এবারও স্মিথের হাতে পড়ে বল।
৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে একজোট হন হাসান ও মিরাজ। দাঁত কামড়ে ক্রিজে থাকার পণ করেছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত সফল তারা। প্রায় ২৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করলেন দুজনে। ৭৩ বলে ৩২ রানে মিরাজ ও ৭৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন হাসান। তার এমন প্রাচীর গড়া ইনিংসে বাংলাদেশ আরও বড় লিড নেওয়ার আশা করছে।
মার্নাস লাবুশেনের বলে ক্যামেরন গ্রিন নিচু ক্যাচ ধরতে পারেননি। বল মাটিতে না পড়লে মিরাজ তৃতীয় দিন নামতে পারতেন না। ৩২ রানে পাওয়া জীবনের সদ্ব্যবহার তিনি শেষ পর্যন্ত করতে পারবেন কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। আপাতত গ্রিনের হাত ফসকে মিরাজের উইকেট বেঁচে যাওয়ার সঙ্গেই দিনের শেষ ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।











