শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক

news-image

অনলাইন ডেস্ক : জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা আংশিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাদের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করে শুল্কহার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগ করে আসছে। নতুন নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমতা আনা এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কৃষি সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ কয়েকটি পণ্য।

নতুন শুল্ক নীতির পেছনে রয়েছে মার্কিন আদালতের আগের এক সিদ্ধান্ত, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এরপর বিকল্প আইনি কাঠামো ব্যবহার করে নতুন শুল্ক ব্যবস্থা চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে কয়েকটি দেশ। ব্রাজিল, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও শুল্ক নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, শ্রমিক অধিকারকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিভিন্ন বাণিজ্য তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও দেশের পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসতে পারে।