নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা আছে কি না খতিয়ে দেখছেন মামদানি
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ১৯, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ তুলে মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তার কারণে তার স্থান হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি বিবেচনায় অনেকেই একই মত পোষণ করেন।
তিনি জানান, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার মেয়র হিসেবে তার রয়েছে কি না, তা জানতে নগরীর আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মামদানির ভাষ্য, আইন তাকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়, তিনি সেটুকুই ব্যবহার করবেন। তবে এ জন্য নতুন কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
এদিকে নেতানিয়াহু সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। একই সঙ্গে তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, মামদানির উচিত তিনি কাদের সমালোচনা করছেন এবং কাদের সমর্থন করছেন, তা ভেবে দেখা। তিনি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের সঙ্গে থাকা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মামদানির অবস্থানের সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন অভিযোগ করেছেন, নিউইয়র্কে বাড়তে থাকা ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় মামদানি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মামদানি জানান, ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় তার প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অর্থায়ন বাড়ানো হয়েছে।
মামদানি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানালেও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার বিষয়টি তিনি নিজের প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখেন।