,

হঠাৎ জনবল অর্ধেক সংকটে বিএডিসি

news-image

চপল মাহমুদ
নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। প্রতিষ্ঠানটির জনবল ছয় হাজার ৮০০ থেকে কমিয়ে তিন হাজার ১৭ জনে নামিয়ে হঠাৎ এক আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যেখানে বিএডিসি জনবল সংকটে ভুগছে, সেখানে এর জনবল কমানোর সিদ্ধান্তে হতাশা তৈরি হয়েছে কর্মীদের মধ্যে।

বিএডিসি কর্মীরা বলছেন, জনবলের অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ বাড়তি কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ও শ্রম দিতে হয় তাদের। অতিরিক্ত প্রকল্পগুলো পরিচালনার দাযিত্বও আছে। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রকে তারা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন।

২০২১ সালের নভেম্বরে আনুতোষিক (এককালীন) পদ্ধতি বাতিল করে বিএডিসির সাত হাজার কর্মীর জন্য অবসরোত্তর পেনশন চালুর প্রস্তাব করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় বিএডিসির ৩০১৭টি পদ সৃষ্টির কথা জানায়, যা বিএডিসি আইন ২০১৮ ও বিএডিসি পুনর্গঠন কাঠামো সংক্রান্ত ১৯৯৯ সালের গেজেটের পরিপন্থি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএডিসির কর্মীরা বলছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএডিসি কর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে ধারাবাহিক সাফল্য আসছে। এমন অবস্থায় বিএডিসির অবসরোত্তর পেনশন চালুর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত কৃষিবান্ধব সরকার ব্যবস্থাকে রীতিমতো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন তারা।

বিএডিসির কর্মীরা মনে করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের কারণে কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার চলমান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।

 

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখেছি। এটা কোনো ক্রমেই সঠিক হবে না। এটা নিয়ে আমরা নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করি এটা সংশোধন করতে পারব।’

বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এক সময় বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বিএডিসির অনেক কর্মী ছিল। কিন্তু আশির দশকে হঠাৎ এর কার্যক্রম সীমিত করায় জনবল কমে আসে। এরপর থেকে বিএডিসি চাহিদার বিপরীতে কম জনবল নিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

বিএডিসিকে নিয়ে ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবর ৬ হাজার ৮০০ কর্মীর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত জনবল হিসেবে ছিলেন দুই হাজার ৩২০ জন। ৬৮০০ জনের মধ্যে এক হাজার ৭০০ জন কর্মকর্তা এবং পাঁচ হাজার ১০০ জন কর্মচারী। বর্তমানে তিন হাজার ১৭ জন কর্মরত আছেন। বাকি পদ শূন্য; কিছু পদ আছে পদোন্নতিযোগ্য।

তিন হাজার ১৭ জন নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কিছু জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। এর মধ্যে জনবল কাঠামো তিন হাজার ১৭ জনে নামিয়ে আনায় চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেল। এতে ২৫ বছর পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএডিসির একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনে বিএডিসি এককভাবে ৬০ শতাংশ সহযোগিতা করে।

১৯৯৮ সালে বিএডিসির জনবল ছিল ৬৮০০ জনের বেশি। তৎকালীন সরকার গেজেটে বলেছিল, যারা অতিরিক্ত আছেন, তাদের চাকরি প্যারোলে গেলে সে পদটা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় জানতে চাইছে, বর্তমানে বিএডিসিতে কতজন কর্মরত আছেন? বিএডিসি জানায়, ৬৮০০ জনের মধ্যে তিন হাজার ১৭ জন কর্মরত আছে। বাকি পদগুলো প্রমোশনযোগ্য ও শূন্য। এগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল, অর্থ মন্ত্রণালয় তিন হাজার ১৭ জনের জনবল কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, বিএডিসির আগের জনবল কাঠামোতেই ছয় হাজার ৮০০ জন কর্মীর কথা বলা আছে। তাহলে এখন ‘নতুন করে’ তিন হাজার ১৭ জন পদ সৃষ্টি করার কিছু নেই।

বিএডিসি কর্মীরা বলছেন, এখন বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালে যে আউটসোর্সিং নীতিমালা আছে, সে অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ হবে। বিএডিসির জনবল কাঠামো হলো ১৯৯৮ সালের। সেই ১৯৯৮ সালের জনবল কাঠামোর সঙ্গে ২০১৮ সালের আউটসোর্সিং নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়ন হয়, তা বোধগম্য নয়।

এসব বিষয়ে নিয়ে বিএডিসি শ্রমিক-কর্মচারী লীগের (সিবিএ) সভাপতি মো. মশিউর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার বিশ^ব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দুই দফায় বিএডিসির ১৩ হাজার কর্মচারী ছাঁটাই করে। আমার মনে হচ্ছে, বর্তমান সরকার খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, সেটা বিরোধীরা মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণে তারা জনবল কাঠামো ৬৮০০ থেকে কমিয়ে ৩০১৭ জনে নামিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’ দাবির কথা জানাতে আগামী রবিবার সকালে রাজধানীর কৃষি ভবনের সামনে মানববন্ধন হবে বলেও জানান তিনি।

বিএডিসির চলমান সংকট নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। বিএডিসি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সাজ্জাদ বিদেশে থাকায় পাওয়া যায়নি তার বক্তব্যও।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না