,

শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্সের অসাধারণ এক ইনিংস ও ন্যাথান লায়নের সঙ্গে অসাধারণ নবম উইকেট জুটির নৈপুণ্যে ২ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারাল অজিরা।

যদিও টেস্টের পঞ্চম দিন প্রথম সেশন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পরও এক প্রান্তে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দলকে টানলেন উসমান খাজা। ম্যাচ একটু একটু করে হেলে পড়ল অস্ট্রেলিয়ার দিকে। তবে খাজাকে ফিরিয়েই আশা জাগাল ইংল্যান্ড। কিন্তু পেরে উঠল না তারা শেষ পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়া ২৮১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে শেষ দিনের ৫.৩ ওভার বাকি থাকতে।

অধিনায়ক কামিন্স ৭৩ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিয়ে ফেরেন। আর ২৮ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন লায়ন।

অথচ ৯ নম্বরে কামিন্স যখন ক্রিজে যান, তখনও জয় থেকে ৭২ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া। অ্যালেক্স ক্যারি অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার সময় তাদের দরকার ছিল ৫৪ রান। লায়নের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৫৫ রানের জুটিতে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন কামিন্স। জয়ের ভিতটা গড়ে দেন অবশ্য খাজা। প্রথম ইনিংসে ৩২১ বলে ১৪১ রান করা ওপেনার এবার ১৯৭ বলে ৭ চারে খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। ম্যাচের সেরাও তিনিই।

এজবাস্টনে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। গত বছর সর্বোচ্চ ৩৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ড হারিয়েছিল ভারতকে।

বার্মিংহামে মঙ্গলবার শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৭৪ রান, ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট। বৃষ্টিতে প্রথম সেশন ভেস্তে যাওয়ার পর খেলা শুরু হয় স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া দুইটায়। দিনের সম্ভাব্য ৬৭ ওভার বাকি তখন। আগের দিন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথকে বিদায় করে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরানো স্টুয়ার্ট ব্রড শেষ দিন বেশিদূর যেতে দেননি ‘নাইটওয়াচম্যান’ স্কট বোল্যান্ডকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে কিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি ২০ রান করে।

এক প্রান্তে ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ছিলেন খাজা। ট্রাভিস হেড প্রথম ১৩ বলে করেন ১ রান। পরে তার ব্যাট থেকেই আসে শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বাউন্ডারি। কাটা আঙুল নিয়ে বোলিং করা মইন আলির তিন বলের মধ্যে তিনি মারেন আরও দুটি চার। ওই ওভারেই অফ স্পিনারের দারুণ ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

অস্ট্রেলিয়ার দরকার তখনও ১৩৮ রান, ইংল্যান্ডের চাই ৫ উইকেট। শেষ দিনে খেলা প্রথম ৫০ বলে খাজা করেন স্রেফ ৭ রান। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ১৪৩ বলে।

এদিন ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার হিসেবে দেশের বাইরে অ্যাশেজের কোনো টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করলেন তিনি। তার আগে সবশেষ এমন কিছু করে দেখিয়েছিলেন মার্ক টেইলর। ১৯৮৯ সালে লিডসে ১৩৬ ও ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। যেখানে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে খাজার অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটিতে চা-বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ সেশনে ৩৮ ওভারে দরকার ছিল ৯৮ রান।

বিরতির পর গ্রিনকে ফিরিয়ে ৪৯ রানের জুটি ভাঙার পাশাপাশি আবার লড়াই জমিয়ে তোলেন অলি রবিনসন। অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বল স্টাম্পে টেনে আনেন ২৮ রান করা গ্রিন। আক্রমণে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারে খাজাকে থামান বেন স্টোকস। স্লোয়ার বল বাঁহাতি ওপেনারও টেনে টানেন স্টাম্পে।

তখনও অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৭২ রান। এরপর দলকে এগিয়ে নেন অ্যালেক্স ক্যারি ও প্যাট কামিন্স। ৮০ ওভারের পর নতুন বল না নিয়ে পুরনো বলেই চালিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তাতেই মেলে আরেকটি সাফল্য। এই ওভারে রুটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ক্যারি।

এরপরই কামিন্স ও লায়নের ওই জুটি। রুটের এক ওভারে কামিন্সের দুই ছক্কায় আবার জমে ওঠে লড়াই। পরের ওভারে লায়নের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি স্টোকস। একটু একটু করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান কামিন্স ও লায়ন। দরকার যখন আর ৩ রান, রবিনসনের অফ স্টাম্পের বল থ্যার্ড ম্যান দিয়ে খেলেন কামিন্স, ফিল্ডার সীমানায় বল আটকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর উল্লাসে মেতে ওঠে অস্ট্রেলিয়া শিবির।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না