,

সখীর কাছে চলে গেলেন সুজন

news-image

মঈন আবদুল্লাহ
যার নাম উঠলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে সুজন-সখীর রসায়ন। সেলুলয়েডের পর্দায় সুজনবেশে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ছন্দময় চরিত্র। সেই সুজন চিত্রনায়ক ফারুক। তিনি আর নেই। আর সখীর চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন চিত্রনায়িকা কবরী। তিনি কয়েক বছর আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই সখীর কাছেই চলে গেলেন আমাদের সুজন। ‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা… তোমার বেলায় নেব সখী তোমার কানের সোনা’- কালজয়ী এ গানের কথা ভুলিব কেমন করে। ফারুক মারা যাওয়ার খবর শোনার পর থেকেই এই গান যেন হৃদয়ে বেজেই চলছে। কী অসাধারণ অভিনয়, কী অসাধারণ ভঙ্গিমা, কী অসাধারণ ছন্দ। এটা একমাত্র ফারুকের বেলায় দেখা গেছে। জীবনের সঙ্গে, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নেওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল তার। চলচ্চিত্রে যা দিয়ে গেছেন সেটা ভাষায় বর্ণনা করে প্রকাশ করা যাবে না। অভিনয় দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। গ্রামীণ চলচ্চিত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ফারুকের পথচলা। একটা সময় ছিল চলচ্চিত্র নিয়েই কাটিয়েছেন দিন-রাত। জীবনের সবটুকু দিয়ে গেছেন সিনেমার জন্য। শুধু যে অভিনেতা তা নয়, চলচ্চিত্রের নেতৃত্বেও দেখা গেছে তাকে। শিল্পী সমিতির নেতা হিসেবেও তার সুনাম ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রেমিক পুরুষ হিসেবে সেলুলয়েডের পর্দায় বারবার ঝড় তুলেছেন। সেই ‘নয়নমণি’ ছবির কথা না বললেই নয়। আবার জীবনঘনিষ্ঠ ছবিতেও দেখিয়েছেন নিজের মুনশিয়ানা। ‘সারেং বউ’ ছবিতে ফারুক যেন নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। সিনেমার কথা বলে শেষ করা যাবে না। স্বর্ণালি যুগে যে কজন সোনা ছড়িয়েছেন তার মধ্যে ফারুক অন্যতম। অভিনয়ের বেলায় কবরী থেকে শুরু করে ববিতা, শাবানা, নূতন, রোজিনা, সুচরিতা, অঞ্জনাসহ অনেকের সঙ্গেই বেঁধেছেন জুটি। ফারুক-কবরী, ফারুক-ববিতা জুটি তো সিনেমার সেরা জুটি। যার ছবি দেখার জন্য দলে দলে দর্শক গেছেন সিনেমা হলে। সুপার-ডুপার-বাম্পার এসব শব্দের সবগুলোই ছিল তার নামের পাশে। আবার চলচ্চিত্রের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে থাকতেন তিনি। তাই তো এ জগতের মানুষরা তাকে মিয়াভাই বলে ডাকতেন। বড় ভাইয়ের শাসন, আদর ও স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছেন চলচ্চিত্র পরিবারকে। ফারুকের চলে যাওয়ায় অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ল ঢাকাই চলচ্চিত্র। সামনের অন্ধকার সময় আরও ঘনিয়ে এলো। দুঃসময়ে কে দেবে আশা, কে দেবে ভরসা। কার কাছে গিয়ে আশ্রয় খুঁজবে অসহায় শিল্পীরা। ভাইয়ের আদরে আর কেউ সাহস দেবে না। সেই চিরচেনা গলা আর শোনা যাবে না। সবই এখন স্মৃতি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না