,

থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা নিয়ে দোটানা কাটেনি

news-image

নিউজ ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল, যার আংশিক চালু হতে পারে আগামী অক্টোবরে। এরপর অন্তত আরও ১০ মাস লাগবে পুরোদমে চালু হতে। সেই হিসাবে আগামী বছরের শেষদিকে পুরোপুরি কার্যক্রমে যাবে থার্ড টার্মিনাল। কিন্তু এ বছর টার্মিনালের ‘সফট ওপেনিং’ হলে এর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের কাজ কোন প্রতিষ্ঠান কোন পন্থায় করবে, তা নিয়ে দোটানা শুরু হয়েছে।

প্রথম দিকে সিদ্ধান্ত ছিল জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাইকার মাধ্যমে পিপিপির ভিত্তিতে থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল কাজ চলবে। তার আগে একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটির অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কাজের প্রস্তাব দিয়েছিল। নানা বিষয় বিশ্লেষণ করে এখন বলা হচ্ছে, নীতিগতভাবে জাপানকে কাজটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এটি কোন পন্থায় দেওয়া হবে, তা নিয়ে সমীক্ষা করতে হবে। গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং ব্রিজের মেইনটেন্যান্স ও অপারেশন বিষয়ে টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার কাজ করবে। বিপুল অর্থে নির্মাণাধীন এ টার্মিনালের আয়ের

অর্থ ভাগাভাগি করতেও একটা হিসাব দরকার। অপারেশনে গেলে কী পরিমাণ অর্থ আয় ও ব্যয় হবে, তা নিয়ে কাজ করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। যেহেতু জাইকার অর্থায়নে টার্মিনালের কাজ চলছে, তাই ঋণের অংশ উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা যাবে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে। আবার জাইকার মাধ্যমে বিশে^র অন্য বিমানবন্দরে নির্মিত কাজের অবস্থা কী; সেখানে আয়ের অর্থ কীভাবে আদায় করা হয়- এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে চাইছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কিন্তু এসব করতে অন্তত দুই বছর লেগে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, উন্নত সেবার জন্য অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নে বিদেশিদের কাছ থেকে একটা প্রস্তাব আসে। যেহেতু ২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘সফট ওপেনিং’ এবং ২০২৪ সালের শেষদিকে অপারেশন, ফলে এ সময়টার জন্য কনসালট্যান্টের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। জনবল প্রস্তুত করছি। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। স্পেসিফিক ইকুইমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণ লাগবে। এটি শুরু হবে এ বছরের এপ্রিল কিংবা মে মাস থেকে, যাতে করে অক্টোবরের আগে কাজ শুরু করা যায়।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বিশ^মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চাইছি। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চাইছে পিপিপির মাধ্যমে। শেষমেশ কোন পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে আলাদা কনসালট্যান্সি নিয়োগ করছি। টার্মস অ্যান্ড রেফারেন্স দরকার। এটি সময়সাপেক্ষ। এ জন্য আলাদা কনসালট্যান্সি নিয়োগ করছি। টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন কী হবে সেটি দেখবে তারা। ইন বিটউইন টার্মিনালের ফাংশন শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বেবিচক সূত্র জানায়, মূলত ইকুইপমেন্ট লিফট, এস্কেলেটর, ব্যাগেজ ও রোড কানেকটিভিটি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বিদ্যমান বিমানবন্দর থেকে শিফট করার বিষয় আছে। অন্তত কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিমানবন্দরের দায়িত্ব পালন করবে বেবিচক। ২০১৯-এর ১ এপ্রিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় বোর্ড অব গভর্নরস সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘জাপানের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।’

বর্তমানে শাহজালালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের নানা অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কাটছে না। নানা চেষ্টা করেও ‘লাগেজ বিলম্ব’ কাটছে না। তা ছাড়া ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিমান কর্মীদের একটি সংগঠনের ধর্মঘটে প্রায় ৫ ঘণ্টা শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ওই ধর্মঘটে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ২৪টি ফ্লাইটের প্রায় ৪ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। সে সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে বিমান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বেবিচক। বেবিচকের ওই চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ নিরবচ্ছিন্ন করতে বিমান বাংলাদেশ ছাড়াও অন্য এজেন্সিকে অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন। এরপর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আধুনিকতা আনতে বিদেশি অংশীদার খোঁজা শুরু করে বিমান। তবে সে প্রক্রিয়াও বেশি দূর এগোয়নি বিমান কর্মীদের আরেকটি আন্দোলনের কারণে। এর আগে ২০০৬ সালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়, যার ওপর বিমানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে পরিকল্পনাটি অনুমোদন পায়নি।

সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে। এখন এ নিয়ে ভিন্নমতও তৈরি হয়েছে। একটি অংশ বলছে, বিমানের আয়ের বড় উৎস এই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং। তা ছাড়া বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে দিলে টার্মিনালের ইজারা, বরাদ্দসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার কী হবে, সে নিয়ে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। বিদেশিরা তাদের মতো করে সব কার্যক্রম চালাতে গেলে নিজেদের অবস্থান বা কর্তৃত্ব¡ থাকবে না। তা ছাড়া দেশি অনেক প্রতিষ্ঠান এককভাবে বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে দরপত্রে কাজটি পেতে আগ্রহী হয়েছে। এখন দরপত্র প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া সমীচীন হবে কিনা এমন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। আবার যারা বিমানের সেবা নিয়ে এতদিন আপত্তি তুলতেন, তাদের একটা অংশও বিমানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজটি করার তদবির করছেন। আবার বেসরকারি বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে পরিচালনা করতে গেলে সরকারের অংশীদারত্ব কমে যায়। তখন রাজস্ব আদায়সহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যু সামনে চলে আসে।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার কাজে জাইকার অর্থায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন কোই’ কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে ‘প্রি-ওরাট : অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ সমীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে ৫টি উপায় দেখিয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘পিপিপি অর কনসেশান’কে। কিন্তু ‘পিপিপি অর কনসেশান’ ধরনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী বাছাইয়ে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। অথচ নতুন টার্মিনাল অক্টোবরে আংশিক শুরুর কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সার্ভিস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নতুন টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে চাইছে বেবিচক। আর বিস্তারিত সমীক্ষার পর কনসেশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাণিজ্যিক ও কারিগরিভাবে পরিচালনা শুরু হবে টার্মিনালের। সার্ভিস কনট্রাক্টের মাধ্যমে টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর কার্যক্রম সম্পাদন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এ পদ্ধতিতে টেন্ডারে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বেবিচকের এক চিঠিতে বলা হয়, পরামর্শকের প্রি-ওরাট প্রতিবেদনে প্রাইভেট সেক্টর পার্টিসিপেশনের ৫টি অপশন চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পিপিপি অর কনসেশান পদ্ধতির আওতায় সুগঠিত চুক্তি বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা সুচারুভাবে করতে সক্ষম হবে এবং সরকারের আর্থিক দায়ভার লাঘবেও সহায়ক হবে। এর সপক্ষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানের কানসাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং আর্জেন্টিনার এজিনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দৃষ্টান্ত দিয়েছে। দৈনিক আমাদের সময়

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না