,

গর্ভাবস্থায় ত্বকে যে ধরনের রোগ হয়

news-image

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মা হওয়া নারীজীবনের অন্যতম সুন্দর, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে নারী মাতৃত্বের স্বাদ ভোগ করতে আগ্রহী, তার জীবনটা অন্য রকম হয়ে থাকে। সন্তান গর্ভে আসার পরের নয় মাসের দীর্ঘ যাত্রা শরীরে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে। তার সঙ্গে কৌতূহল, উদ্দীপনাসহ নানা ধরনের মানসিক চাপ তো আছেই। পরিবর্তন আসে জীবন যাপনেও। যেমন নারীর খাদ্যতালিকা বদলে যায়। শরীর বদলে যায়। নতুন যে প্রাণ তিনি ধারণ করেন, তার আসার পথ যেন সুমসৃণ হয়, তার জন্য থাকে বাড়তি সতর্কতা। তবে একথা বলতেই হয়, সতর্কতা শুধু মায়ের খাবার, ওষুধ, ফিটনেস এবং মনের ক্ষেত্রেই নিলে চলবে না, ত্বকেরও যত্ন নিতে হবে। গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময় পিটুইটারি, থাইরয়েড ও অ্যাডরিনাল গ্রন্থির কর্মকাণ্ড বাড়ে। ফলে বিভিন্ন প্রোটিন ও স্টেরয়েড হরমোন তৈরি হয়। এর প্রভাবে যেসব রোগ বা উপসর্গ দেখা দেয়, তা হলো

পিগমেন্টেশন : গর্ভবতী মায়ের স্তনের বোঁটা ও এর আশপাশের ত্বক কালচে রঙের হয়। কিছু ক্ষেত্রে বগল ও ঊরুতেও এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে মুখে মেছতা হওয়া, যা গর্ভাবস্থায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রেই হতে দেখা যায়। প্রসব করার পর কিছুদিনের মধ্যে পরিবর্তিত রঙ আগের অবস্থায় ফিরে আসতে থাকে।

চুল : অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভবতীর মুখে সামান্য পরিমাণ বা অবাঞ্ছিত লোম গজাতে দেখা যায়, যা প্রসবের পর কমে যায়। তবে জটিল গর্ভাবস্থার সৃষ্টি হলে কিংবা অপারেশনের মাধ্যমে প্রসব করিয়ে থাকলে যদি অস্বাভাবিক ধরনের শারীরিক বা মানসিক চাপ হতে দেখা যায়, তাহলে প্রসবের ১ থেকে ৫ মাসের মধ্যে বেশি চুল পড়ে গেলেও প্রায় সবক্ষেত্রে আবার তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

ত্বক ফাটা : গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে, তার একটি হচ্ছে শরীরের ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হলেও স্ট্রেচ মার্ক থেকে চুলকানি হতে পারে, যা বেশ অস্বস্তিকর। এর কারণ গর্ভাবস্থায় ত্বকের ওপর চাপ পড়ে। পেট বড় হওয়ার কারণে ত্বক প্রসারিত হতে থাকে। যখন আর প্রসারণ ঘটার ক্ষমতা থাকে না, তখন ত্বকে ফাটল ধরে। ৯০ শতাংশ গর্ভবতীর ক্ষেত্রে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পেট ছাড়া Hip, Buttock পরিবর্তন হয়। Pemphigoid গর্ভাবস্থায় ফোস্কা ও চুলকানি থাকে, যা কষ্ট ও যন্ত্রণা দেয়।

Pruigo of Pregnency এর ক্ষেত্রে গর্ভবতীর পেটে লালচে দানা হতে দেখা যায়। গর্ভবতীর শেষের ৩ মাসে এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এ দানা এক হয়ে মিশে গিয়ে পুরো স্থানেই একটা লালচে ভাব সৃষ্টি করে। এতেও থাকে অস্বাভাবিক চুলকানি। অবশ্য প্রসবের পর তা আবার ভালো হয়ে যায়।

Pruigo I Gravidarum লিভার সিস্টেমের সমস্যার কারণে হয়। এক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সারা শরীরে চুলকানি শুরু হয় এবং সেই সঙ্গে জন্ডিস দেখা দেয়। এছাড়া কিছু সমস্যার সঙ্গে বমি বমি ভাব ও শারীরিক দুর্বলতা বিদ্যমান থাকে। সন্তান প্রসবের কিছুদিন পর এটা ভালো হয়ে যায়। তবে ভবিষ্যতে পুনরায় সন্তানসম্ভবা হলে উপসর্গ নিয়ে রোগটি আবার দেখা দিতে পারে। Impetigo Herpetiformis সেরিয়াসিসের রোগের বিশেষ ধরন। একবার আক্রান্ত হলে পরে গর্ভবতী হলে পুনরায় দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চুলকানি না থাকলেও শরীরের একটি বড় অংশ আক্রান্ত হতে পারে।

লেখক : চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না