,

নরম গরম কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ

news-image

বিএনপিকে মোকাবিলায় পরিস্থিতি দেখে কঠোর হওয়ার চিন্তা # সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না তবে উসকানিমূলক বক্তব্যে ছাড় নয়

মুহম্মদ আকবর
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ জমে উঠেছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশের মাধ্যমে অবস্থান জানান দিচ্ছে; আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুংকারও দিচ্ছে। এর বিপরীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ না করে দলের নিয়মিত কর্মসূচিতেই নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নরম-গরম কৌশলে এগোচ্ছে দলটি।

এ জন্য রাজনীতির মাঠ গরম করার পাশাপাশি নির্বাচনী আমেজ তৈরি করার বিষয়টিও ভাবছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাদের ভাষ্য- বিএনপির সভা-সমাবেশে তাদের সরাসরি বাধা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে সমাবেশের নামে আপত্তিকর বা উসকানিমূলক মন্তব্য কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে কঠোর হওয়ার কথা ভাবছে দলটি। এ ক্ষেত্রে দলগত ও আইনগতভাবে বিএনপিকে মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগের।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় একটি কর্মসূচিতে বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ। তার বোন, ভাই ও বোনের জামাই আমার কাছে এসেছে। আবেদন করেছে। আমরা তার সাজা স্থগিত করে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছি। মানবিক কারণেই দিয়েছি। কিন্তু বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে পাঠিয়ে দেব।’

এ ছাড়া গতকাল রোববার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ : বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের খণ্ডচিত্র’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ‘আমার শুধু একটিই আহ্বান থাকবে দেশবাসীর কাছে- রাজনীতি করতে চাইলে সুষ্ঠু রাজনীতি করুক, আমার আপত্তি নেই। কিন্তু

আমার এই সাধারণ মানুষের গায়ে কেউ হাত দিলে তাদের রক্ষা নেই। আমি শুধু দেশবাসীকে এটুকুই বলব- ওই দুঃসময়ের (অগ্নিসন্ত্রাস) কথা যেন কেউ যেন ভুলে না যায়।’

গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ শনিবার রাজধানী বাড্ডা এলাকায় শান্তির সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে এখন ছাড় দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আগামী ডিসেম্বরে আর ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে খেলা হবে, প্রস্তুত হয়ে যান। ডিসেম্বরে রাজপথ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দখলে থাকবে, বিএনপির থাকবে না।’

বিএনপিকে মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ও আইনগতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে বরিশালের গৌরনদীতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনসহ ১৩০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা। মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ২৪ ডিসেম্বরের আগেই তৃণমূল আওয়ামী লীগ, ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করে দলকে সংগঠিত করার কথা ভাবছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস ও ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী- এ দুটি দিবসেও নেতাকর্মীদের সমাবেশের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর কথা ভাবছে দলটি। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে ও দেশবাসীকে নতুন বার্তা দিতে ২৪ নভেম্বর যশোরে, ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম এবং ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। সমাবেশগুলোতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় সমাবেশ ও বিজয় উল্লাসের প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগ, ২৬ নভেম্বর মহিলা আওয়ামী লীগ ও ৯ ডিসেম্বর যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের তারিখ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এগুলোতেও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ঘটানোর প্রস্তুতি আছে আওয়ামী লীগের। তবে ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় বিএনপির যে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে, তার পাল্টা সমাবেশের কোনো পরিকল্পনা নেই দলটির। কিন্তু বিএনপি সমাবেশকে পূর্ণ মনিটরিংয়ে রাখবেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ থেকে কখনো বলা হচ্ছে- সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না; আবার কখনো বলা হচ্ছে- বিএনপিকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়টি কী বোঝানো হচ্ছে, জানতে চাইলে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘না, সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না; কিন্তু উসকানিমূলক বক্তব্য ছাড় দেওয়া হবে না।’ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘সমাবেশ করা বিএনপির সাংবিধানিক অধিকার। সমাবেশে ছাড় দেওয়া-নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু সমাবেশে নামে অস্থিতিশীল পরিবেশ করলে, পেট্রোল বোমা মেরে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারলে, দেশে অরাজকতা তৈরি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা পর নির্বাচন প্রতিরোধের নামে মাঠে তা-ব করলে কোনো ছাড় নয়।’

এসএম কামাল বলেন, ‘যে হুংকার দেওয়া হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বরের পর খালেদা জিয়ার নিয়ন্ত্রণে দেশ চলবে; বাস্তবতা হচ্ছে- ১৬ ডিসেম্বরের পর বিএনপি অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করলে খালেদা জিয়া আবার জেলে চলে যাবেন। কারণ ১৬ ডিসেম্বর বিএনপির জন্য নয়, খালেদা জিয়ার জন্য নয়। তারা পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনায় চলে। ডিসেম্বর মাস হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাস। এই মাসে যারা জয় বাংলা সেøাগান দেয়, তারা বিজয় উল্লাস করবে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না