,

প্রবাসীর স্ত্রীর ফেলে যাওয়া সন্তানের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

news-image

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্বপ্না রানী (ছদ্মনাম) নামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ছেলে সন্তান জন্ম দিয়ে পালিয়ে যান। অবশেষে সেই নবজাতকের দেখভালের দায়িত্ব নিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। জন্মের পর থেকেই শিশুটিকে হাসপাতালের নবজাতকদের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রের (স্ক্যানু) ৫ নম্বর বেডে রাখা হয়েছে। শিশুটি বর্তমান সুস্থ রয়েছে। শিশু বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে দেখে রাখছেন।

গত বুধবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সন্তান রেখে মায়ের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হলে শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার অনেক বিত্তবান মানুষ। জানা গেছে, প্রায় ২৫ জন মানুষ ওই শিশুকে নিতে দরখাস্ত করেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, ওই নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি সান্নিধ্য খুবই জরুরি। শিশুটির যাতে কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা না দেয়, সেজন্য তাকে হাসপাতালের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রাখা হয়েছে। সেখানে যখন যে নার্স ডিউটিতে রয়েছেন তিনিই শিশুটির দেখভাল করছেন। শিশুটির ওজন প্রায় তিন পাউন্ড। হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আলী।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন বলেন, ‘গত শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।’ এ সময় জেলা প্রশাসনের এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) শাহেদ আরমানসহ হাসপাতালে দায়িত্বরতরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর আমরাও রাখছি। এই নবজাতকের জন্য আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করবো। আইন অনুযায়ী বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো। এ পর্যন্ত নবজাতক শিশুর কোনো আত্মীয়-স্বজন খোঁজ নিতে হাসপাতালে আসেনি।’

কুষ্টিয়া সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ডিসি স্যার সার্বিকভাবে খোঁজ নিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুয়ায়ী শিশুটির ডায়াপার, ফিডার, গুঁড়া দুধ, জামা-কাপড় থেকে শুরু করে যখন যা প্রয়োজন হচ্ছে আমরা তা সরবরাহ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে শিশুটির দায়িত্ব নিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জায়গা থেকে আরও কয়েকজন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা শিশুটির বিষয়ে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে আজ রোববার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি আমাদের সময়কে বলেন , ‘আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তার জন্য যা যা প্রয়োজন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব করা হবে। আমি নিজে সার্বিকভাবে খোঁজখবর রাখছি।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না