,

বাংলাদেশে গরু পাচারের বিরুদ্ধে মেঘালয়ে কসাই ধর্মঘট

bangladesh1453432364আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে গরু পাচারের প্রতিবাদে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের কয়েকশ কসাই ধর্মঘট পালন করছেন। কসাইদের সংগঠন অভিযোগ , বাংলাদেশে পাচার বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের বেশি দাম দিয়ে গরু কিনতে হচ্ছে। রাজধানী শিলংসহ মেঘালয়ের প্রায় দেড়শো কসাই এই সপ্তাহ থেকে তাঁদের দোকানে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। গরু পাচার বন্ধের দাবিতে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই ধর্মঘট।
রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, সম্প্রতি পাচারের পরিমান বেড়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার পরে মেঘালয়ের নতুন রুটে গরু পাচার করছে চোরাচালানকারীরা।

মেঘালয়ে মূলত গরু আনা হয় আসামের রাজধানী গুয়াহাটির কাছে খানাপাড়া গরু বাজার থেকে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, কারণ বাংলাদেশে চোরাচালানের জন্য পাচারকারীরা অনেক বেশি দামে গরু কিনে নিচ্ছে । এ কারণে স্থানীয় কসাইদের কাছ থেকেও একই দাম নিচ্ছে গরুব্যবসায়ীরা।

রাজ্যের কসাইদের সংগঠন, খাসি-জয়ন্তিয়া বুচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ওয়াংকেরলাং লামারে বলেছেন, ‘গত একবছর ধরে বাংলাদেশে গরু পাচার খুব বেড়ে গেছে। এর জন্য গরুর দামও অনেক বেশি হয়ে গেছে। দামের দিক দিয়ে পাচারকারীদের সঙ্গে আমরা পেরে উঠছি না। সরকারকে বার বার জানানো স্বত্ত্বেও কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না তারা। বাধ্য হয়েই আমাদের গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘটের পথে যেতে হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, মেঘালয়ের মোট জনগোষ্ঠী প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টান এবং এখানে গরু ও শুকরের মাংসের চাহিদা অনেক বেশি।

রাজ্যের কসাইরা বলছেন, খানাপাড়ার যে বাজার থেকে তাঁরা গরু কিনতেন , সেখানে এক জোড়া গরুর দাম ছিল গড়ে চল্লিশ হাজার টাকা, কিন্তু এখন সেটাই কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৭ থেকে ৫৮ হাজার টাকা।

ওয়াংকেরলাং লামারে বলেন, ‘এর ওপরে পরিবহন মালিকরাও পাচারকারীদের কাছ থেকে যে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন, সেই একই ভাড়া চাওয়া হচ্ছে স্থানীয় কসাইদের কাছ থেকেও।’

তিনি বলেন, ‘একবছর আগে হয়তো দিনে এক বা দুই ট্রাক গরু বাংলাদেশে পাচার হত। তবে এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ১০ থেকে ২০ ট্রাক। একেকটা ট্রাকে গোটা কুড়ি গরু ধরে। এর থেকেই বোঝা যাবে যে এই সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার একবছরেই কতটা বেড়ে গেছে।’

বি এস এফের মেঘালয় সীমান্ত অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরু পাচারের যে পুরনো রুট ছিল দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তে সেখানে খুবই কড়াকড়ি করা হচ্ছে সম্প্রতি। ওই পথে গরু পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পাচারকারীরা বছরখানেক ধরে মেঘালয় বা আসামের ধুবড়ির রুট দিয়ে চালান পাঠাচ্ছে বাংলাদেশে। এই রুটগুলো একেবারে নতুন না, বহু আগে এই রুটে গরু পাচার হতো। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গ বন্ধ হওয়ার পরে আবার সেই পুরণো রুট চালু করেছে পাচারকারীরা।

মেঘালয় পুলিশের মহানির্দেশক রাজীব মেহতা বলেন, ‘সীমান্তের কাছাকাছি যাতে পাচারের উদ্দেশে কেউ গরু না নিয়ে যেতে পারে, তার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা আমরা নিতে শুরু করেছি। কোথায় কী উদ্দেশে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহ হলেই আটক করা হচ্ছে।’

তবে তিনি জানান, গরু পরিবহনের ব্যাপারে একটা জটিলতা আছে। ভারতের অভ্যন্তরে গরু পরিবহন বেআইনি নয়। তাই একেবারে সীমান্তের কাছে গরুর চালান পৌঁছলে তবেই তা আটকানো সম্ভব। আবার সেটাও রাজ্য পুলিশ করতে পারে না, সেটার দায়িত্ব বিএসএফের।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা