অনলাইন ডেস্ক : রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশ জানায়, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর গত রোববার আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের কারাগার থেকে বাইরে না এনে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেই নমুনা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারীকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন অনুমোদন করার পর নিয়ম অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কারাগারেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সংগৃহীত প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। তবে ঘটনার প্রায় নয় দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডোপ টেস্টের ফল মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করবে না এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ২২ আগস্ট কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চারজনকে হত্যার ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।