অনলাইন ডেস্ক : ভারতের মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ রুপি মূল্যের ৬ দশমিক ৮৫ কেজি ২৪ ক্যারেট সোনা জব্দ করেছে দেশটির ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। এ ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি ট্রানজিট যাত্রী এবং একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড স্টাফসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিআরআই কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সোনা পাচারের একটি চক্রের বিরুদ্ধে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সংস্থাটি অভিযানটির নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট গোল্ডস্ট্রাইক’।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি এয়ারলাইন্সে নিয়োজিত এক গ্রাউন্ড স্টাফকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে মোমের মধ্যে লুকানো সাতটি ক্যাপসুল পাওয়া যায়। এসব ক্যাপসুলের ভেতরে সোনার গুঁড়া ছিল বলে জানিয়েছে ডিআরআই।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই কর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও নয়টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ১৬টি ক্যাপসুল থেকে ৬ দশমিক ৮৫ কেজি সোনা পাওয়া যায়। কাস্টমস আইনের আওতায় এসব সোনা জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি দুবাই, ব্যাংকক ও মালে থেকে মুম্বাই হয়ে যাতায়াত করা ট্রানজিট যাত্রীদের ব্যবহার করে বিদেশি সোনা পাচার করত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রানজিট যাত্রীদের মাধ্যমে সোনা মুম্বাই বিমানবন্দরে আনার পর বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা সহযোগীদের সহায়তায় সেগুলো বাইরে সরিয়ে নেওয়া হতো।
গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন বেসরকারি এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড স্টাফ। পাচার চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, সোনার উৎস কোথায় এবং শেষ পর্যন্ত কার কাছে এসব সোনা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে ডিআরআই।
তদন্তের স্বার্থে চক্রটির কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।