,

সুদহার কমায় বিনিয়োগের আশা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও স্থবির বিনিয়োগের দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সিদ্ধান্তে ব্যাংক ঋণের সুদ ধীরে ধীরে কমতে পারে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির সভায় নীতি সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হার সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার সাড়ে ৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক লেনদেনের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে নতুন বিনিয়োগও দুর্বল রয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার পরিমাণও আগের তুলনায় কমেছে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতি সুদ কমলে ব্যাংকগুলোর অর্থ সংগ্রহের ব্যয় কমবে। এতে ব্যবসা ও শিল্প খাতে ঋণের সুদ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের চাপে থাকা উদ্যোক্তারা এতে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, নীতি সুদ কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এর ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমার পেছনে শুধু উচ্চ সুদহার নয়, বরং জ্বালানি সংকট, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতিগত সমস্যাও বড় কারণ। তাই শুধু সুদ কমিয়ে বিনিয়োগ প্রত্যাশামতো বাড়ানো কঠিন হতে পারে।

এদিকে, নীতি সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে যখন দেশে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণপ্রবাহ বাড়লেও উৎপাদন ও সরবরাহ সমানভাবে না বাড়লে বাজারে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে সুদ কমানোর পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতি সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত সফল করতে হলে মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে একদিকে বিনিয়োগে গতি ফিরতে পারে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।