এবার জিয়াউলের মিরপুরের, ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নিল দুদক
এবার সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের মিরপুরের ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের ক্রোক আদেশের ভিত্তিতে বুধবার (২৮ জুলাই) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট ও এর ভেতরে থাকা সব মালামালের তালিকা তৈরি করে জব্দ করে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স। অবশ্য কতগুলো এবং কী মালামাল জব্দ করা হয়েছে তার কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি দুদক। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, মিরপুর ডিওএইচএসের ৩১ নম্বর সড়কের ৫৪১ নম্বর বাড়ির এল-৩ নম্বর ফ্ল্যাটটি থেকে কিছু আসবাবপত্র ও স্থাবর সম্পদের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে।
আদালতের একই আদেশের ভিত্তিতে গত ২০ জুলাই জিয়াউল আহসানের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সেক্টর-১২-এর ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে ‘জয়িতা’ নামের ৯ তলা ভবনে তার বসবাসের ফ্ল্যাটের সব মালামাল জব্দ করেন দুদকের একই কর্মকর্তা। সে সময় ওই বাড়ি থেকে এআই ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৯৯ কোটি টাকার রসিদ, তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে চার কোটি টাকার সোনালী ব্যাংকের
একটি চেক, এক ভরি ওজনের হোয়াইট গোল্ড (সাদা স্বর্ণ), পরিধেয় নানা ধরনের পোশাক ও আসবাবপত্র জব্দ করা হয়।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলায় গত বছরের ২৪ এপ্রিল জলসিঁড়ির বাড়িটিসহ ৩৯টি স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ। ক্রোকের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আরেক আদেশে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করেন আদালত।
প্রায় ৪১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুটি মামলা করে দুদক। মামলায় বলা হয়, জিয়াউল আহসান তার জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ হাজার ডলার জমা রাখেন। তার নামে থাকা ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
আরেক মামলায় নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তার চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
জিয়াউল আহসান ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়। পরে ঢাকার নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।











