,

ভাঙারি দরে বিক্রি হবে ১২ পরিত্যক্ত বিমান

news-image

অনলাইন ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

প্রায় ১০ বছর ধরে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পড়ে থাকা এসব উড়োজাহাজের কারণে অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের মে মাসে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক। এখন এগুলো বিমান হিসেবে বিক্রির উপযোগী না থাকায় স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ধাতু হিসেবে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, পরিত্যক্ত ১২টি উড়োজাহাজের মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এসব বিমান বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনের প্রায় এক লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে।

বিমানগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কার্গো কার্যক্রম, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা ব্যবহারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থান অব্যবহৃত থাকায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বেবিচক জানায়, এসব উড়োজাহাজের উড্ডয়নযোগ্যতার সনদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিমান সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করা হলেও বিক্রির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্য নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উড়োজাহাজ মূল্যায়নের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান দেশে নেই। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণে যে খরচ হবে, তা বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বেবিচক।

এ কারণে কোনো নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামের অনুমোদন চেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। নির্বাচিত ক্রেতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানগুলো বিমানবন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এগুলো এখন আর সচল বিমান নয়, বরং স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে।

বিমান খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকায় বছরের পর বছর পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ পড়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এগুলো সরিয়ে ফেললে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।