অনলাইন ডেস্ক : ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দলটি। তবে দল থেকে বহিষ্কার হলেই এমপি পদ বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে আইনে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে বা দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। এছাড়া সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো এমপি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর না পার হলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারাতে পারেন।
তবে নৈতিক স্খলনের বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করলেও গাজী নজরুল ইসলাম তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন এবং তা আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বৈধ। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলেও তিনি জানান।
আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় স্পিকার প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য জানতে চাইবেন। গাজী নজরুল ইসলাম পদত্যাগ করলে তার আসন শূন্য হবে। আর পদত্যাগ না করলে তিনি নিজের অবস্থান লিখিতভাবে জানাবেন।
এরপর স্পিকার উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। ইসি সাংবিধানিক বিধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তি করবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে যদি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রায় আসে, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তিনি পদে বহাল থাকবেন।