,

ঢাকায়ও লোডশেডিং মেনে নিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানী ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত রাখার নীতি থেকে সরকার সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ঢাকার বাসিন্দাদেরও কিছুটা বিদ্যুৎ সংকট মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম বড় কারণ গ্যাসের ঘাটতি। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বর্তমানে যে লোডশেডিং চলছে, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ও দেশে লোডশেডিং ছিল। তবে রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে তা কম রাখা হতো। ঢাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকায় কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু রাজধানীকে সম্পূর্ণ লোডশেডিংমুক্ত রাখার ধারণা থেকে বের হয়ে আসা প্রয়োজন।

২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্টের গড় লোডশেডিংয়ের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুন ও জুলাইয়ে চলতি বছরের পরিস্থিতি ২০২৩ সালের তুলনায় ভালো ছিল। ২০২৩ সালের জুনে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট, যেখানে ২০২৬ সালের জুনে তা ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমে আসে। জুলাইয়ে ২০২৩ সালে গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, আর ২০২৬ সালে তা ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। ওই মাসে ২০২৩ সালে গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

আগস্টে বিদ্যুৎ সংকট বেড়ে যাওয়ার পেছনে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা সবারই জানা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সামগ্রিকভাবে জুন ও জুলাইয়ে চলতি বছরের লোডশেডিং আগের তুলনায় কম ছিল বলে দাবি করেন জাহেদ উর রহমান।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট কেটে গেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ফলে বর্তমানের মতো তীব্র সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে সরকার আশা করছে।