অনলাইন ডেস্ক : ধর্ম মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার জায়গা নয় বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। তিনি বলেন, দেশের সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করাই এ মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব।
সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি, হেফাজতে ইসলামের বিরোধিতা, ধর্মীয় মতাদর্শ, মব কালচার, হজ ব্যবস্থাপনা, বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়োগ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
নিজের নিয়োগ নিয়ে আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো নিয়োগই সবার পছন্দ হবে এমন নয়। তার ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে কারও ভুল ধারণা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা পরিষ্কার হবে বলে মনে করেন তিনি। গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জবাবদিহির চাপ থাকলে ভুলের সুযোগ কমে যায়।
হেফাজতে ইসলামের আপত্তির প্রসঙ্গে শামীম কায়সার লিংকন জানান, তার পারিবারিকভাবে হানাফি ও আহলে হাদিস—দুই ধারার ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। ওমরাহ পালনের পর ইসলাম নিয়ে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ আরও বাড়ে। আরবি, তাজবিদ ও বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ঘরানার মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, ধর্মীয় জ্ঞান বিস্তৃত হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট মতকে সঠিক এবং অন্য সবাইকে ভুল মনে করা ঠিক নয়। তার কর্মকাণ্ডকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে থাকলে সময়ের সঙ্গে সেটি পরিষ্কার হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও জোরদার করতে চান তারা। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মতকে প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, গুজব ও অপপ্রচার অনেক সময় পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তোলে। কোনো ঘটনা যাচাই না করেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। মব কালচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও প্রতারণা বন্ধে আগামী হজের প্রস্তুতি আগেভাগেই শুরু করার কথা জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। হাজিদের সেবা নিশ্চিত করা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং প্রতারণাকারী এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়োগের নীতিমালায় কোনো দুর্বলতা থাকলে তা পর্যালোচনা করার কথাও বলেন শামীম কায়সার লিংকন। একইভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দুর্নীতির সুযোগ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন মতের মানুষের উদ্দেশে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আসেননি। তার কাজ ও কর্মকাণ্ডই ভবিষ্যতে তার অবস্থান পরিষ্কার করবে। সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান ও স্পেস নিশ্চিত করাই তার দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।