সাহাবুদ্দিনকে বিচারের আওতায় আনার দাবি বিভিন্ন দলের
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ২৫, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে বিরোধী জোটের কয়েকটি দল, রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের ওপর থেকে স্বৈরাচারের একটি প্রভাব সরে গেছে। তিনি বলেন, কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন সেটি তাদের কাছে বড় বিষয় নয়; বরং তারা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের নৈতিক ও রাজনৈতিক যোগ্যতা তিনি আগেই হারিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়নি। নতুন রাষ্ট্রপতি যেন নিরপেক্ষভাবে সংবিধান ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেন, সেই প্রত্যাশাও জানান তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার বিষয় উল্লেখ করা হলেও সেখানে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা তাকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি থাকাকালে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর জন্য তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। তারা তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সংবিধান লঙ্ঘন ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনার দায় থেকে সাহাবুদ্দিন নিজেকে এড়িয়ে যেতে পারেন না এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা দরকার।
অন্যদিকে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিও সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির নেতারা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ব্যাংকিং অনিয়মসহ যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।