শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ সংকট নিয়ে ওমান-ইরানের আলোচনা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ওমান ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ১৪তম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, চলমান দ্বিপক্ষীয় পরামর্শের অংশ হিসেবে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু বা সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কোনো পক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।

হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ওমান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ধরে রেখেছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো সব সময় উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকা উচিত, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়।

কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। গত মাসে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই স্থাপনাটি মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছিল।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বিদ্রোহীরা হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও হুথিদের দাবি, তারা কোনো আন্তর্জাতিক নৌপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেনি।