অনলাইন ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোয়ি হুড।
তিউনিসিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুডের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাহত হয়েছে। এখন আগের তুলনায় আরও কঠিন শর্তের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে তাকে।
হুড বলেন, শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিই নয়, ইরান যেন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসে—এ বিষয়টিও আলোচনার অংশ করতে হবে। তবে একই সঙ্গে দুই ইস্যুতে সমাধানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে তা শুধু ইরান নয়, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি কূটনৈতিক পথকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
জোয়ি হুড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ ইতোমধ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। তার মতে, ইরান অন্য দেশগুলোকে যুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে চাইলেও এ কৌশল সফল নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ ট্রাম্পের নীতির সমালোচক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তারা সহজে ওয়াশিংটনের বিপরীতে অবস্থান নেবে না।
তবে চীনকে সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন হুড। ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হিসেবে চীন যদি আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, বর্তমান সংকটের জটিলতা হলো—অনেক দেশ ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করে না, আবার ইরানের অবস্থানের পক্ষেও সরাসরি দাঁড়াচ্ছে না। ফলে ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।