দিল্লির বিক্ষোভ তীব্র, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন মোদি
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ২৩, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এ আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা এ ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি দাবি করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছেন।
বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।
মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ ও শিবাজি স্টেডিয়ামসহ আরও কয়েকটি স্টেশন।
মেট্রো চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।
এর আগে বুধবারও একই স্টেশনগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। প্রায় আট ঘণ্টা পর সেগুলো খুলে দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার সকালে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।