কেন থামছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত?

news-image

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। কাতার, মিসর ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী অগ্রগতির কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বের অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরায় কার্যকর এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ইরান নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহারের কথা বলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এর আগে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তোলার পর আবারও সংঘাত শুরু হয়।

বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক হামলা থামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া সংঘাতকে আরও গভীর করছে। ফলে দুই দেশের জন্যই সমঝোতার পথে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং আস্থার সংকট আরও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন কোনো সমঝোতা কার্যকর করতে হলে হরমুজ প্রণালির ব্যবহার, নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চুক্তি লঙ্ঘনের পরিণতি—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত শর্ত নির্ধারণ করতে হবে।

এদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মানদেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই পক্ষ যদি সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় কার্যকরভাবে ফিরতে না পারে, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি