অনলাইন ডেস্ক : ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা অনলাইনের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থার ফলে করদাতারা এখন ঘরে বসেই সহজে রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারছেন।
বুধবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা দেওয়া হবে, যার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা।
এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চলতি করবর্ষে রেকর্ডসংখ্যক করদাতা এ সেবার মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করেছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এছাড়া প্রযুক্তিগত বা নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কেউ অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকবে।
এনবিআর জানিয়েছে, ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যাবে। রিটার্ন সফলভাবে জমা দিলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদও সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
ই-রিটার্ন দাখিলে কোনো জটিলতা দেখা দিলে অফিস সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার এবং অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
এনবিআর আরও জানায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা মিলবে। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না এবং ডিসেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর গুনতে হতে পারে। তাই সময়মতো রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।