তারল্য ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক : ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি তারল্য স্থিতিশীলতা বাড়াতে নিট স্থিতিশীল তহবিল অনুপাত (এনএসএফআর) রিপোর্টিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাসেল-৩ তারল্য কাঠামোর আওতায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অর্থবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন সহজ করা এবং ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতেই নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে। গত জুন মাস থেকে সংশোধিত টেমপ্লেটে তথ্য জমা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, খোলা বাজার কার্যক্রম (ওএমও) নীতিমালার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এনএসএফআর রিপোর্টিং পদ্ধতিতে সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ), ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ)সহ বিভিন্ন সুবিধাকে জামানতযুক্ত ঋণ বা অর্থায়ন হিসেবে আলাদাভাবে দেখাতে হবে।
এর আগে এসব লেনদেন যেভাবে হিসাব করা হতো, নতুন ব্যবস্থায় তা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের প্রকৃত তারল্য পরিস্থিতি ও ঝুঁকি আরও স্পষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এনএসএফআর রিপোর্টিংয়ে ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জামানতযুক্ত ঋণ বা অর্থায়ন’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক রেপোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়ের হিসাবের আওতায় দেখাতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিকিউরিটিজের হিসাব পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দায়মুক্ত ও দায়বদ্ধ বাজারযোগ্য সিকিউরিটিজ আলাদা করে রিপোর্ট করতে হবে। হোল্ড টু ম্যাচিউরিটি (এইচটিএম) সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে অ্যামোর্তাইজড কস্ট এবং হোল্ড ফর ট্রেডিং (এইচএফটি) সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে বাজারমূল্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নতুন নির্দেশনায় দেশীয় ও বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের ঋণ, বিনিয়োগ ও আমানতের তথ্যও পৃথকভাবে দেখাতে হবে। এতে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন ও তারল্য অবস্থান বিশ্লেষণ আরও সহজ হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সব তফসিলি ব্যাংককে সংশোধিত এনএসএফআর রিপোর্টিং টেমপ্লেট অনুযায়ী তথ্য জমা দিতে হবে। নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন শেষ হওয়া রিপোর্টিং সময় থেকেই এই পদ্ধতি কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি তহবিল ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং তারল্য ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে।











