অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এর আগে দেওয়া সরকারি হিসাবের তুলনায় এই ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
মঙ্গলবার সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে হেগসেথ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা এবং সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ প্রয়োজন। এর মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলার মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
হেগসেথ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত অর্থ না পেলে সেনাদের বেতন, অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুত এবং সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এর আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে হাজির হন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ সময় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করে।
তবে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের পথ তৈরি করছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধ জয়ের দাবি করার পরও কেন নতুন করে এত বড় বাজেট প্রয়োজন হচ্ছে।
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স হেগসেথকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ করেন। জবাবে হেগসেথও পাল্টা সমালোচনা করেন এবং দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্যও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কংগ্রেসের অধিবেশন বিরতির কারণে প্রস্তাবিত অর্থ অনুমোদন পেলেও পেন্টাগনের কাছে তা পৌঁছাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
পেন্টাগনের আগের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মে পর্যন্ত ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
হেগসেথ দাবি করেছেন, নতুন অর্থ বরাদ্দ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ব্যয় দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।