মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইএফডি অটোমেশনেও ভ্যাট ফাঁকি, হারাচ্ছে হাজার কোটি টাকা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা ও অটোমেশন নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালু করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মেলেনি। বরং দুর্বল তদারকি, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ‘প্যারালাল বিলিং’-এর মতো প্রতারণার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, খুচরা ও পাইকারি খাত থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে আদায় হচ্ছে মাত্র প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সম্ভাব্য রাজস্বের বড় অংশই সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে হারিয়ে যাচ্ছে।

এনবিআর ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রথমে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) এবং পরে ইএফডি চালু করতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডিভাইস স্থাপন, কার্যকর ব্যবহার এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পটি প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি।

মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন থাকলেও তা সচল রাখা হয় না। পরিবর্তে হাতে লেখা বা সাধারণ কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করা রসিদ দিয়ে ভ্যাট আদায় করা হয়। এতে ক্রেতারা ভ্যাট দিলেও সেই তথ্য এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে পৌঁছায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তি স্থাপন করলেই ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হয় না। এর সঙ্গে কার্যকর তদারকি, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার, সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার এবং কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রুয়ান্ডা, পর্তুগাল, উগান্ডা ও কেনিয়ার মতো দেশগুলো ই-ইনভয়েসিং, রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং ক্রেতাদের জন্য প্রণোদনা চালুর মাধ্যমে ভ্যাট আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও ইএফডি ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কঠোর শাস্তির বাস্তব প্রয়োগ এবং ব্যবসায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিপুল বিনিয়োগের পরও ভ্যাট অটোমেশন কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ বহাল থাকবে।