মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটা রায় বাতিলের দিন সংঘর্ষে আরও ১৯ প্রাণহানি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৪ সালের ২১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলি ও সহিংসতায় অন্তত ১৯ জন নিহত হন। এর ফলে আন্দোলন ঘিরে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৪ জনে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সেদিনও সারাদেশে কারফিউ এবং ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। ফলে অনলাইনভিত্তিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংবাদ সংগ্রহসহ দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাপক স্থবিরতা নেমে আসে।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সরকারি চাকরিতে নতুন কোটা কাঠামো নির্ধারণ করে রায় দেন। এতে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সংরক্ষিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থী না থাকলে সংরক্ষিত পদ মেধাতালিকা থেকে পূরণের নির্দেশও দেওয়া হয়।

রায়ের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও কারফিউ প্রত্যাহার, ইন্টারনেট চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এবং সমন্বয়কদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। অপর একটি অংশ ৯ দফা দাবি ঘোষণা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় এবং পরদিন গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ ওঠে, তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর সড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল।

দিনজুড়ে রাজধানীর বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, কুড়িল, মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে বহু মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। একই সময় সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সরকারের ঘোষণায় ওই দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি ছিল। পোশাক কারখানাসহ অধিকাংশ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরদিনও কারফিউ বহাল রাখার ঘোষণা দেয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সীমিত সময়ের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত জানায়।

সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা হয় এবং পাঁচ দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে অন্তত ৫৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিকে চলমান অস্থিরতার কারণে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৩১ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। আন্দোলন ও সহিংসতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।