শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জোয়ারের পানি কমছে, দুর্ভোগ কমেনি

news-image

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বানভাসি এলাকা থেকে জোয়ারের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ঘরের ভেতরে পানি থাকায় অনেকে এখনও রয়েছেন বাঁধের উপর। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ এবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে অসহায় হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ গ্রামে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে বেড়েছে দুর্ভোগ।

দেবপুর ও চাড়িপাড়ার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দুটি আজও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান বিধ্বস্ত বাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। এ সময় এলাকার মানুষকে দিয়েছেন বাঁধ মেরামতের আশ্বাস।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের অস্বাভাবিক জোয়ারে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় এ উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম, ধানখালী ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম, চম্পাপুর ইউনিয়নের ৪টি ও মহিপুর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়াও বেড়িবাঁধ দিয়ে নীলগঞ্জ, টিয়াখালী ও ধুলাসর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে যায়। অধিকাংশ গ্রামের মানুষ শেষ সম্বলটুকু ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের উপর।

এদিকে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের ভেতরের মৎস্য ঘের ও পুকুরগুলো তলিয়ে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ নিজেদের উদ্যোগে মেরামত কাজ শুরু করেছে মৎস্য চাষিরা। সরকারি হিসেবে এ উপজেলায় তিন কোটি তিন লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ ভেসে গেছে। তবে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি বলে জানিয়েছেন মৎস্য চাষিরা।

লালুয়া ইউনিয়নের বানাতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বসির মিয়া বলেন, এখানো জোয়ারের সময় পানিতে থৈ থৈ করে এলাকা। মানুষ সকালে জোয়ারের আগেই কাছাকাছি সাইক্লোন শেল্টার কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেন, আবার ভাটিতে ফেরেন। এসব এলাকার দুর্দশার কথা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, বড়ইতলা এবং পুরান মহিপুর এলাকায় এবার পানির চাপ বেশি ছিল। ওই এলাকার মানুষ এখনো আতংকে রয়েছে। এখনই টেকসই বেড়িবাঁধ না হলে প্রতি অমাবশ্যা কিংবা পূর্ণিমার জোয়ারের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, ভাঙ্গা অংশ দিয়ে রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের পানিতে আজও লালুয়া ইউনিয়নের ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘর, পুকুর ও মাছের ঘেরে। এ কারণে জোয়ারের সময় প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার এখনও বেড়িবাঁধের উপর রয়েছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা না কমলে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাদের বিধ্বস্ত বসতঘর মেরামত করতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবীর এ বিষয়ে বলেন, এ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে শুকনা খাবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। উপজেলায় শিশু খাদ্যের জন্য ১ লাখ টাকা ও গো-খাদ্যের জন্য আরো ১ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণের পর আরো আড়াই লাখ টাকা দেয়া হয়।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা