চট্টগ্রাম ট্যাংক দুর্ঘটনা : সেনাসদস্য রিফায়াতের বাড়িতে শোকের মাতম, দাফনের প্রস্তুতি
রাজশাহী প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াত নিহত হওয়ার খবরে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে নিহতের বাড়ির পরিবেশ।
দূর-দূরান্ত থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন রিফায়াতের বাড়িতে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা। আকস্মিক এ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও হতাশা।
নিহত তাসনিম রিফায়াত পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল হকের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ। রিফায়াতের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার নাম রাফতা তাসলিম ইকরা।
পড়াশোনার সময়ই সেনাবাহিনীতে যোগদান
স্বজনরা জানান, কারিগরি শাখা থেকে এসএসসি পাস করার পর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন রিফায়াত। সেখানে পড়াশোনার সময়ই সেনাবাহিনীতে চাকরি পান তিনি। প্রায় ১০ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই সেনাসদস্য।
হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জনকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ।
মরদেহ আসার অপেক্ষায় পরিবার
নিহতের ভাই দীপ্ত জানান, চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর রিফায়াতের মরদেহ রাজশাহীতে আনা হবে। এতে দুপুর হয়ে যেতে পারে। মরদেহ আসার পর পারিবারিকভাবে নির্ধারিত সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমার ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। পাশাপাশি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”
ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা
রিফায়াতের বাবা আসাদুল ইসলাম ছেলের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। রিফায়াত ছিল মেজ ছেলে। চাওয়ার কিছু নেই, সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”
পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে রিফায়াতের মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মরদেহ আসার পর স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এরই মধ্যে কবর খননসহ দাফনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।











