৯০ দিনের মধ্যে জ্বালানি সংকটের সমাধান চায় জামায়াত
অনলাইন ডেস্ক : বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ ইতোমধ্যে সরকারের হাতে রয়েছে। তাই নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির বদলে বিদ্যমান প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
সোমবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিলেন। পরে ৭ জুন সংসদে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ফলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে করণীয় নির্ধারণে নতুন করে বড় কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে দলটি।
জামায়াতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত গ্যাসকূপের ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) কার্যকর করা, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল নজরদারি এবং রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন করে সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধান বা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব না হলেও দ্রুত ফল পাওয়া যায় এমন বেশ কিছু কাজ করা সম্ভব। এর মধ্যে বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল গ্যাসকূপের তালিকা প্রকাশ, জরুরি ওয়ার্কওভার শুরু, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তীভাবে কাজে লাগানো এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ, এসপিএম ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার। শুধু নতুন এফএসআরইউ নির্মাণ করলেই জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। এলএনজি আমদানির সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং বিদ্যমান পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও ট্যারিফ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মহেশখালী ও পায়রা টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
জামায়াত সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতির প্রতিবেদন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিকল্পনা দিন’ আহ্বানের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ২১ মে সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।











