,

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে দল পুনর্গঠনে বিএনপি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে দল পুনর্গঠনে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে যেকোনো সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে।

একই সঙ্গে বিএনপির জেলা, মহানগর ও তৃণমূল পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একাধিক সাংগঠনিক টিম শিগগিরই মাঠপর্যায়ে সফর করতে পারে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনে গতি ফেরানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরালো হবে। দলের প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মহাসচিবের পদে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির আরও দুই নেতার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের কাজ মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট নয়। তাই এখনই বড় ধরনের রদবদলের পরিবর্তে আরও দুই-তিন মাস সময় দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শিগগিরই দল পুনর্গঠন এবং নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনকে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন নেতারা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুনর্গঠন বা সংযোজন-বিয়োজন দলের অভ্যন্তরীণ রুটিন কাজ। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা হচ্ছে। শিগগিরই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন কমিটি দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে গুলশানে বৈঠক করেন তিনি। এর আগেও বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন দলের চেয়ারম্যান।

নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একই ধরনের বৈঠক হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব আনার ইঙ্গিতও দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক অবস্থা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ, কমিটি নিয়ে জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছেন তারেক রহমান।

দলের একাংশের ধারণা, জাতীয় কাউন্সিলের আগেই অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনেকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে পারেন। সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করতে বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তৃণমূলে বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় এমপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেটেনি। এসব দ্বন্দ্ব নিরসন করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভাগভিত্তিক মতবিনিময় চলছে।

চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরালোভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান তিন সাংগঠনিক জেলা—চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরকে একটি মডেল হিসেবে সাজানোর নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে না আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তরুণ, শিক্ষিত ও মার্জিত এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবেন না—এমন নেতাদের মূল্যায়নের কথাও বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ওই বৈঠকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৭০০ নেতা অংশ নেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকা এবং পরবর্তী সময়ে সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে দলের অনেক জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কাউন্সিল না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বও উঠে আসছে না। তাই তরুণ ও নিবেদিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিকে পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে সময় কয়েকটি উপকমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে তা থেমে যায়। এখন সেই পরিকল্পনাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে আবারও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা। তবে দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়ায় বিভিন্ন কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর ১১টি কমিটির মধ্যে ৯টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, চলতি মাসেই নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর