অনলাইন ডেস্ক : ওজন নিয়ন্ত্রণসহ নানা স্বাস্থ্য উপকারের আশায় চিয়া সিড এখন অনেকের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এতে ফাইবার, উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে উপকার পেতে হলে এটি সঠিক নিয়মে খাওয়া জরুরি।
চিয়া সিডে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার পানির সংস্পর্শে ফুলে জেলির মতো হয়। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এর পুষ্টি উপাদান হৃদ্স্বাস্থ্য, হাড়ের গঠন ও সামগ্রিক পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত চিয়া সিড খাওয়া উচিত নয়। এর কিছু উপাদান রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চিয়া সিড রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কারও মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়াও নিরাপদ নয়। পানির সংস্পর্শে এটি দ্রুত ফুলে ওঠে। তাই শুকনো অবস্থায় খেয়ে পর্যাপ্ত তরল না নিলে গলা বা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। খাওয়ার আগে পানিতে, দুধে, ডাবের পানিতে বা দইয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নেওয়া ভালো।
অতিরিক্ত চিয়া সিড খেলে বেশি ফাইবারের কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা বা আইবিএস রয়েছে, তাদের পরিমাণের বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকা দরকার।
সাধারণভাবে দিনে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড যথেষ্ট হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। চিয়া সিড খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। এতে অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন হজমের সমস্যা এড়ানো সহজ হয়।
চিয়া সিড পুষ্টিকর হলেও এটিকে কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সঠিক পরিমাণে ও ভিজিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কোনো রোগ থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে খাদ্যতালিকায় চিয়া সিড যুক্ত করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।