বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ২৩, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৬ জুলাই সকালে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—নুরুল আলম, দিদারুল আলম, নুর নবী হৃদয়, উজ্জ্বল দাশ ও মাহমুদুল হক। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহমুদুল হকের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত মাহমুদুল হকের স্বজন মামুন বলেন, তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন। এ কারণে আপাতত আইনি পথে যাওয়ার কথা ভাবছেন না। তার মতে, এটি পরিকল্পিত ঘটনা নয়, দুর্ঘটনা।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন জানান, পুলিশ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে এবং মামলা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা মামলা করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন। তবে ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় অনেকে ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চাইছেন না। শ্রমিকদের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক দিন আগেই অনেকে ওই কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন। নিহত নুর নবী হৃদয়ের ছোট সন্তান রয়েছে। দিদারুল আলম ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে; তারও রয়েছে স্ত্রী ও ছোট সন্তান। আকস্মিক এই মৃত্যুতে পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।