সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরোয়া উপায়ে মশা দূরে রাখার সহজ কৌশল

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বর্ষা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেকেই মশা তাড়াতে কয়েল, অ্যারোসল বা ইলেকট্রিক লিকুইড ব্যবহার করেন। তবে এসব পণ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘদিন ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া কিছু উপায় অনুসরণ করে মশার উপদ্রব কমানো যেতে পারে।

রসুনের স্প্রে
রসুনের গন্ধ মশা অপছন্দ করে। কয়েক কোয়া রসুন পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি স্প্রে বোতলে ভরে জানালা, বারান্দা বা ঘরের বাইরের অংশে ছিটিয়ে দিলে মশা দূরে থাকতে পারে।

এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার
লেমনগ্রাস, ইউক্যালিপটাস ও টি-ট্রি অয়েলের গন্ধও মশা এড়িয়ে চলে। এসব তেল পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘরে স্প্রে করা যায়। চাইলে তুলো ভিজিয়ে দরজা-জানালার পাশে রেখেও ব্যবহার করা সম্ভব।

চা পাতা ও নিম পাতার ধোঁয়া
শুকনো চা পাতা ও নিম পাতা একসঙ্গে পুড়িয়ে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তা মশা তাড়াতে কার্যকর হতে পারে। অনেকেই এটিকে রাসায়নিক কয়েলের তুলনায় তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন।

দরজা-জানালায় নেট লাগান
মশা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো দরজা ও জানালায় মশারি নেট লাগানো। এতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে, পাশাপাশি মশাও ঘরে ঢুকতে পারে না।

মশা প্রতিরোধী গাছ লাগান
সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার ও পুদিনার মতো গাছের গন্ধ মশা পছন্দ করে না। এসব গাছ বারান্দা, জানালা বা বাড়ির প্রবেশপথের কাছে রাখলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির পরিবেশও থাকে সবুজ ও সতেজ।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
মশার বংশবিস্তার রোধে ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। ঝোপঝাড়, আবর্জনা এবং জমে থাকা পানি মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

প্রাকৃতিক এসব পদ্ধতি অনুসরণ করলে রাসায়নিক কয়েল বা স্প্রের ব্যবহার কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতেও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিকল্প নেই।