,

ক্ষয়িষ্ণু বাম রাজনীতি: পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা কতটা?

news-image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় যারা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় ছিল, সেই বাম দলগুলো এখন অনেকটাই নীরব এবং প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি বাম রাজনীতির ধীরে ধীরে অবক্ষয়ের ফল, নাকি এটি একটি নতুনভাবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া? বামপন্থী নেতারা অবশ্য মনে করেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্থান-পতন স্বাভাবিক বিষয় এবং সময়ই নির্ধারণ করবে তাদের ভবিষ্যৎ।

তাদের মতে, বাম রাজনীতি ছাড়া দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যও অসম্পূর্ণ। তাই তারা বিশ্বাস করেন, বামদের আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে আসা প্রয়োজন এবং এটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্যও জরুরি।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাম দলগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার আদায় এবং সামাজিক বৈষম্যবিরোধী নানা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একসময় তাদের সক্রিয় উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে ভারসাম্য তৈরিতে সহায়ক ছিল বলে মনে করা হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। বড় দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি বামদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাদের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি নির্বাচনে দেখা যায়, নবীন একটি দল তুলনামূলক বেশি ভোট পেলেও বাম দলগুলোর ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে নেমে আসে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদের জনভিত্তি নিয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাম রাজনীতির দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অভ্যন্তরীণ বিভাজন। একই আদর্শ থাকা সত্ত্বেও একাধিক দলে বিভক্ত থাকা, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘদিনের ঐক্যের অভাব তাদের শক্তিকে দুর্বল করেছে।

এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের দুর্বলতা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়াও বড় একটি কারণ। কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে যে সম্পর্ক একসময় বাম রাজনীতির ভিত্তি ছিল, তা এখন আগের মতো শক্ত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বাম দলগুলো পিছিয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আধুনিক রাজনৈতিক ভাষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাদের প্রভাব কমেছে।

তবে নেতারা মনে করেন, সংকটের মাঝেও বাম রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে যায়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য এবং সামাজিক অসাম্য—এসব ইস্যুতে তারা এখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

তাদের দাবি, তারা সবসময় শোষিত মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই পথে থাকবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাম রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধুমাত্র পতন হিসেবে না দেখে রূপান্তরের সময় হিসেবে দেখা উচিত। সমাজে বৈষম্য, বেকারত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন যত বাড়ছে, ততই বিকল্প রাজনৈতিক চিন্তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাম দলগুলোর মধ্যে ঐক্য, শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন জরুরি বলে মনে করেন তারা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাম রাজনীতি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে—এটি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে, নাকি ধীরে ধীরে প্রান্তিক অবস্থানে আরও হারিয়ে যাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে তিতাস-বুড়ি নদী দখলের অভিযোগ

আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে নবীনগরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ পালিত

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে আসিনি

আপিল বিভাগে বাগবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান

আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি মুলতবি

ঢাকায়ও লোডশেডিং মেনে নিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম বদলাবে না: বিমানমন্ত্রী

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, পাশে থাকার বার্তা সারজিসের

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু

সরকারি হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে পুরস্কার

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ