সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনকামিং কলে সরকারের ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি

news-image

তাবারুল হক
ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের মাধ্যমে (আইজিডব্লিউ) বিভিন্ন কোম্পানি (গেটওয়ে অপারেটর) বিদেশি ইনকামিং ফোন কলের বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য ৯ হাজার ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশে আনা থেকে বিরত থেকেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে তিন বছরে রাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকসহ সংস্থাটির সাবেক ছয় চেয়ারম্যান ও কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

জহুরুল হক ২০২১ সালের মার্চ থেকে তিন বছরের বেশি সময় দুদকের কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে গত ২৯ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। এর আগে সাবেক এই জেলা জজ বিটিআরসির কমিশনার এবং পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিটিআরসি থেকে বিদেশি ইনকামিং ও আউটগোয়িং ফোন কলের সুবিধার মাধ্যমে সরকারের ওই ৯ হাজার ১০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটে।

জহুরুল হক ছাড়া তৎকালীন বিটিআরসির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের ও সাবেক কমিশনার মো. আমিনুল হাসান। তাদের সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

তবে যেসব ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটর বিটিআরসি থেকে কম দামে ইনকামিং

কল আনয়ন এবং বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কাউকে আসামি করতে সুপারিশ করা হয়নি।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী ইনকামিং কল প্রতি মিনিটের জন্য ৩০ সেন্ট মার্কিন ডলার পাওয়ার কথা থাকলেও সরকার পেয়েছে ৫০ শতাংশ কম, অর্থাৎ ১৫ সেন্ট মার্কিন ডলার করে। নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কম পরিমাণ অর্থ এনে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২৮ মাসে সরকারের আরও ২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। আর কম মূল্য পাওয়ায় সরকারের আরও ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রেভিনিউ শেয়ারিং কমবেশি করার কারণে সরকারের আরও ৩৮৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই একই সময় সরকারের কোনো অনুমোদন ছাড়াই আইন-কানুন লঙ্ঘন করে বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিং ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়। অপরদিকে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের রেভিনিউ শেয়ারিং ১৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে সরকারের আরও ৩৮৪ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে।

কম দামে ইনকামিং কল আনয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত করা এবং বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিং খাতে ক্ষতিসহ সব মিলে সরকারের ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান-কমিশনারের দায়িত্বে থেকে সরকারের অনুমোদন নিয়ে সব কাজ হয়েছে এবং কোনো নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন মো. জহুরুল হক। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘বলা হচ্ছে কম টাকা আসছে। আসলে তা নয়। ওই সময় প্রতিবছর ৩ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা লাভ হয়েছে। এখন তা বছরের হয় ১০০ কোটি টাকার মতো। সরকারের কোনো ক্ষতি হয়নি। যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলা হচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন রয়েছে, দুদকের কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।’

দুদকের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগটি দুদকের উপপরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ অনুসন্ধান করে সম্প্রতি কমিশনে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করেছেন। এতে তিনি ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছেন। কমিশন তা অনুমোদন করলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর তদন্তে নতুন করে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা আমলে নিয়ে আসামির তালিকায় যুক্ত করা হবে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন, ‘অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে কি না, এ সম্পর্কে আমি অবহিত নই। এখনও কোনো তথ্য আমার কাছে আসেনি। তবে কমিশন থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী সময়ে জানাতে পারব।’

সাবেক জেলা ও দায়রা জজ জহুরুল হক বিডিআর হত্যা মামলার বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট বিটিআরসির কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০১৮ সালের ১২ মে কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের মেয়াদ শেষ হলে তাকে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে জহুরুল একাধারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশনার (লিগ্যাল ও লাইসেন্সিং) হিসেবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ১০ মার্চ জহুরুল হক দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ২৯ অক্টোবর দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার আছিয়া খাতুনের সঙ্গে একযোগে তিনিও পদত্যাগ করে।

এরপর জহুরুল হকের বিরুদ্ধে বিটিআরসির দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে সরকারের ক্ষতিসাধন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুদকের তদন্তাধীন মামলার আসামির কাছ থেকে ‘আর্থিক সুবিধা’ গ্রহণ, ‘জাল জালিয়াতির’ মাধ্যমে রাজউকের প্লট বরাদ্দ নেওয়া, বড় দুটি টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে ‘শত শত কোটি টাকা ঘুষ’ নিয়ে সেই অর্থ ‘বিদেশে পাচার করে’ বিভিন্ন দেশে একাধিক বাড়ি নির্মাণসহ ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগ পৃথকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

 

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা