,

যুবলীগ নেতা জামাল হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন আসামিরা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা
কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে আলোচিত যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলু। তিনি বোরকা পরে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা তিন ব্যক্তির একজন।

গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আদালতে আসামিরা জবানবন্দি দেন। আজ শনিবার আদালতের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দেলোয়ার হোসেন দেলু আদালতে জবানবন্দিতে বলেন, ‘দাউদকান্দিতে জমি বিক্রি ও দালান উঠানোর চাঁদা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয় জামাল-কামাল ও সুজন-শাকিল দুই গ্রুপের মধ্যে। এগুলো নিয়ে মারামারিও হয় কয়েক দফা। পরে ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে জামালকে হত্যার পরিকল্পনা করে প্রতিপক্ষ। এই বিষয়ে সোহেল সিকদারসহ আরও কয়েকজন সহায়তার কথা বলেন। ৩০ এপ্রিল বিকেলে জিয়াকান্দি পাওয়ার হাউস থেকে একটি হায়েসে উঠে আরিফ, মনির ও আমি বোরকা পরি। গাড়িতে আরিফ আমাকে একটি ও মনিরকে একটি বন্দুক দেয়। তার কাছে রাখে আরও একটি। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গৌরীপুর বাজারে চলে যাই। গৌরীপুর বাজারে আমাদের লোক জামালের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। সেখানে জামালকে দেখা মাত্র আরিফ ও কালা মনির দুটি করে গুলি করে। শেষে আমি একটি গুলি করি। লোক জড়ো হতে থাকলে আমরা দৌড়ে ভুলির রাস্তা মাথায় চলে যাই। সেখান থেকে জঙ্গল দিয়ে মোক্তারের গ্যারেজের কাছে গেলে শাহ আলী হায়েস গাড়ি নিয়ে আসে। আমরা চান্দিনা কাঠেরপুল এলাকায় গিয়ে দেখি দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মাসুদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেছে। তিনি গাড়িতে উঠলে আরিফ বলে ‘জামাল শেষ’। তখন মাসুদ বলে ঠিক আছে। আমরা গাড়িতে করে আশ্রমের পাশে গেলে সৈকতকে দিয়ে পাঁচটা ফেনসিডিল আনে মাসুদ। আমরা সবাই মিলে খাই। মাসুদ অস্ত্রের ব্যাগ সৈকত নামে একজনের কাছে দিয়ে বলে তার বাড়িতে রেখে আসতে। সেখান থেকে মাসুদসহ আমরা নিমসার বাজার এলাকায় চলে যাই। ওখানে মাসুদ ফোন করে অন্য একটি হায়েস নিয়ে আসে। সেই হায়েস করে মাসুদসহ আমরা নোয়াখালীর সূবর্ণচরে দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের মুরগির খামারে চলে যাই। সেখানে গোসল করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। পরে আমি শনিরআখড়া আমার খালার বাড়িতে চলে যাই। সেখান থেকে র‌্যাব আমাকে গ্রেপ্তার করে।’

জামাল হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আদালতে দেলু, সৈকত ও গাড়িচালক সুমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতে মাসুদসহ পেছনের সব মাস্টারমাইন্ডের কথা বেরিয়ে এসেছে।

গাড়ি চালক সুমন হোসেন গাড়িতে করে আসামিদের বহন করার কথা আদালতে স্বীকার করেন। অপরদিকে মাসুদের বাড়িতে অস্ত্রের ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম সৈকত। এখন পর্যন্ত জামাল হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাজেস বড়ুয়া জানান, ‘আমরা গভীরভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছি। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। আশা করি জামাল হোসেন হত্যার সংশ্লিষ্ট সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

কুমিল্লা দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন খুন হন। বোরকা পরে তিনজন এসে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। জামাল হোসেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। তিতাস উপজেলায় বাড়ি হলেও তিনি ব্যবসায়িক সূত্রে পাশের দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন। মাজহারুল ইসলাম সৈকত বরকামতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের অনুসারী। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মাসুদ যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন হত্যা মামলার ১০ নম্বর আসামি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না