,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে শীতের কাপড়

news-image

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : প্রতিনিয়ত কমছে তাপমাত্রা , সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। কুয়াশার কারণে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও আকাশে দেখা মিলছে না সূর্যের। গত কয়েকদিনের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কিন্তু এ শীতেও বিপণী বিতান থেকে ভালো গরম কাপড় কেনার সামর্থ নেই অনেকেরই। তাই এসব মানুষের ভরসা ফুটপাতের দোকানগুলো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা। মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকজন ভিড় করছেন সেখানে। এদিকে নিজস্ব পুঁজি না থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। তবে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশি তারা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতের আবহ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলা শহরের মঠের গোড়া, টি.এ রোড, সদর হাসপাতাল রোড, মসজিদ রোড ও কোর্ট রোডের ফুটপাতে শীতের কাপড় নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বিপণী বিতানে দোকান ভাড়া নেয়ার সক্ষমতা তাদের। অনেকে আবার ভ্যানগাড়িতে করেও কাপড় বিক্রি করছেন। ফুটপাতের এসব দোকান ও ভ্যানগাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে বড়দের জ্যাকেট, সোয়েটার, জিপার, ট্রাউজার, গেঞ্জি এবং ছোটদের জিপার, প্যান্ট, টপস্, গেঞ্জি ও সোয়েটারসহ সব ধরনের গরম কাপড়।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আনা এসব গরম কাপড় ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৪শ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বড়দের প্রতিটি জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪শ টাকায়। আর সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বিকেলের পর থেকেই দোকান ও ভ্যানগুলোতে ভিড় করেন ক্রেতারা। প্রতিদিন গড়ে একজন ব্যবসায়ী ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করতে পারছেন বলে জানিয়েছন তারা।রোকসানা বেগম নামে এক কর্মজীবী নারী জানান, স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। যে টাকা বেতন পান তাতে করে মার্কেট থেকে গরম কাপড় কিনলে সংসার চালাতে কষ্ট হবে। তাই ফুটপাত থেকেই কিনছেন। তিনি বলেন, আমাদের মতো মানুষের জন্য ফুটপাতই ভরসা।

ছিদ্দিক মিয়া নামে একজন জানান, সারাদিন রিকশা চালিয়ে ৫/৬শ টাকা পান। কয়েকদিন ধরে শীতের কারণে রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই ২৫০ টাকা দিয়ে ফুটপাত থেকে একটি জ্যাকেট কিনেছেন। এ জ্যাকেট দিয়েই এবারের শীত পার করে দেবেন।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের দুই মাস তারা গরম কাপড় বিক্রি করবেন। দেশের বিভিন্ন গার্মেন্ট এবং বিদেশ থেকে আসা ব্যবহৃত ও ত্রটিপূর্ণ কাপড়গুলো তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয় ফুটপাতে। গত কয়েকদিন ধরে শীত বাড়ার কারণে বেচাকেনাও বেড়েছে। অধিকাংশরাই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরম কাপড়ের ব্যবসায় নেমেছেন। আরেক ব্যবসায়ী মো. সোহাগ জানান, তিনিও আশা এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। এখন বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের কারণে ভয়ে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, মার্কেটে দোকান ভাড়া নেয়ার ক্ষমতা নেই। ফুটপাতের এ দোকান দিয়েই সংসার চলে। নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে না পারলে এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারব না। পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।

সোলেমান মিয়া বছরের অন্যন্য সময় ফল বিক্রি করেন। তবে, শীতের সময়টাতে গরম কাপড় নিয়ে ফুটপাতে বসেন। চট্টগ্রাম থেকে থেকে জ্যাকেট ও সোয়েটার এনে বিক্রি করেন। তিনিও জানান, শীত বেড়ছে তাই বেচাকেনাও ভালোই হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর