,

২৩ শে মার্চ পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে পতাকা না দেখিয়ে অনাস্থা জানিয়েছিলো ঢাকা টিভি

news-image

১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকেই স্বাধীনতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এরই অংশ হিসেবে ২৩শে মার্চ ঢাকায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময় অনুষ্ঠান শেষ না করে কৌশলে টেলিভিশনের পর্দায় পাকিস্তানের পতাকা না দেখিয়ে দেশটির প্রতি অনাস্থা দেখিয়েছিলেন।
৭১এর ২৩শে’ মার্চ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘ঢাকা টেলিভিশন’ তাদের অনুষ্ঠান নির্ধারিত রাত ১০টার পরিবর্তে রাত ১২টার পরে গিয়ে শেষ করেন। সেদিন এই কৌশল যারা নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন টেলিভিশনের তৎকালীন ঘোষক সরকার ফিরোজ।
ঠিক কিভাবে তখন তারা এই কাজটি করেছিলেন ? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে সরকার ফিরোজ বলেন, ২৩শে মার্চ সেদিন পাকিস্তানের সম্ভবত স্বাধীনতা দিবস ছিল। তাই সেদিন আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, পাকিস্তানের কোন পতাকা আমরা আমাদের টেলিভিশনে দেখাবো না।
কিন্তু আমাদের এই সিদ্ধান্ত তারা কোন না কোনভাবে জেনে গিয়েছিল। তখন ওখানে থাকা পাকিস্তানি এক আর্মি মেজর আমাদের বলেন যে, তোমরা নাকি টেলিভিশনে পাকিস্তানের পতাকা দেখাবেনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছো। তাই তোমাদের ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো। আর যদি তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাও অর্থাৎ পাকিস্তানের পতাকা দেখাও তবে ছাড়া পাবে।
তার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা ২৩ শে মার্চ দেখাবো না। আমরা দেখাবো রাত ১২টার পরে। এই চিন্তাভাবনা করে রাত ১১টার সময় তখন আব্দুল্লাহ আল মানুন ‘ছাড়পত্র’ নামের একটা নাটক তৈরি করেছিলেন সেই সময়ের আঙ্গিকে। আমরা তখন সেই ছেড়ে দিলাম ওই নাটকটার সময় ছিল ৬৯ মিনিট। যার ফলে রাত ১১টার নাটকটি চালানোর পরে শেষ হয় রাত ১২টা ৯মিনিটে। তার পরে আমি পর্দায় গিয়ে বললাম যে এখন বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ১২টা বেজে ৯ মিনিট। আজ ২৪শে, মার্চ আমাদের আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ। তখন কিন্ত আমি আর পাকিস্তান জিন্দাবাত টাত কিছুই বলিনি।
এই পরিকল্পনাটা আপনার কিভাবে করেছিলেন কারা করেছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাটা হঠাৎ করেই হয়েছিল। আমরা ঢাকা টিভির জেনারেল ম্যানেজার আমিরুজ্জামান খান, ঢাকা টিভির চিফ ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন ও অনুষ্ঠান ম্যানেজার মোস্তফা মনোয়ার এবং আমি। আমরা এই ৪ জন সেদি হঠাৎ করে সেদিনই এই সিদ্ধান্তটা নেই এবং আমাদের বলা থাকে যে, ঘোষণা দিয়েই যার যার মত করে ওখান থেকে সরে যেতে হবে।
নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাবার পরেও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কোন চাপ আসেনি ? জবাবে তিনি বলেন, না। কারণ আমরা যে নাটকটা চালিয়ে দিলাম সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো টেলিভিশন বন্ধ করা যাবে না। তাছাড়া আমরা কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমরা পাকিস্তানের পতাকা দেখাবো ২৪ শে মার্চ। সেই চিন্তাটা সম্ভবত তাদের মাথায় আসেনি।
তার পরে আমি যখন ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে আসতেই ওই পাকিস্তানি মেজর আমাকে ধরেছিলেন এবং আমাকে হেনস্তাও করেছিলেন।
এই কৌশল যখন জেনে যায় তখন এর প্রভাব কি টেলিভিশনের ওপরে পড়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, হ্যা সমগ্র দেশের মধ্যে এর প্রভাব পড়েছিল। তাছাড়া বাংলাদেশের মধ্যে আমরা বেশ প্রশংসিতও হয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রশংসা আমরা বেশি দিন ধরে রাখতে পারছিলাম না। কারণ, ২৫ শে মার্চ রাতেইতো ওরা আমাদের ওপরে হামলা শুরু করলো।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে