ভর্তুকি নেই, নিম্নমানের খাবারে ভোগান্তি বেরোবি শিক্ষার্থীদের
অনলাইন ডেস্ক : প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো ভর্তুকি চালু হয়নি। ফলে তুলনামূলক বেশি দামে খাবার কিনেও মান, স্বাদ ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন আবাসিক হল—শহীদ ফেলানী হল, বিজয়-২৪ হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, খাবারে বৈচিত্র্য কম এবং নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক সময় খাবারের মান ও পরিমাণও সন্তোষজনক নয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ডাইনিংয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী ডাইনিংয়ে নিয়মিত খাবার না খেয়ে কক্ষে বৈদ্যুতিক হিটারে রান্না করছেন। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেল ও খাবারের দোকানে খাচ্ছেন। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময় নষ্ট হওয়ায় পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছেলেদের হলের ডাইনিংয়ে একবেলা খাবারের দাম ৪০ টাকা। এর মধ্যে মাছ, মাংস বা ডিমের একটি পদ এবং একটি সবজি দেওয়া হয়। অন্যদিকে শহীদ ফেলানী হলে ৬০ টাকায় তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজারদর বিবেচনা করে খাবারের মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হলে কম খরচে পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থী মো. রিফাত হোসেন রাফি বলেন, ডাইনিংয়ের খাবারের মান ভালো না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কক্ষে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এবং একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন, ভর্তুকি এবং ডাইনিং পরিচালকের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শহীদ মুখতার ইলাহী হলের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, প্রশাসনের উচিত ডাইনিংয়ে ভর্তুকি দেওয়া অথবা অন্তত নিয়মিত খাবারের মান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা।
শহীদ ফেলানী হলের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খান অভিযোগ করেন, একাধিকবার ডালের মধ্যে পোকা পাওয়া গেছে। কখনো পচা ডাল রান্না করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, মাছ ও মাংসের মান মোটামুটি ভালো হলেও সবজি অনেক সময় খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং পরিচালক মোস্তফা বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে ভর্তুকি না পাওয়ায় সীমিত বাজেটের মধ্যে খাবারের মান ভালো রাখা কঠিন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ৪০ টাকার মধ্যেই সর্বোচ্চ মানের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সিফাত রুমানা জানান, ৬০ টাকায় তিনবেলা খাবারের মধ্যে চাল, ডাল, সবজি, আমিষ ও জ্বালানির খরচ বহন করতে হয়। পাশাপাশি হলের আসনের তুলনায় মিল চালু করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। ফলে কম দামে ভালো মানের খাবার নিশ্চিত করা কঠিন।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরীফ বলেন, ডাইনিংয়ে ভর্তুকির জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইউজিসিতে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ভর্তুকি অনুমোদন হয়নি।
খাবারের মান উন্নত করতে বাবুর্চিকে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ডাইনিং পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে দায়িত্ব নিতে কোনো শিক্ষার্থী আগ্রহী হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, হলগুলোতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য কাজ করছেন। ইউজিসি থেকে বাজেট অনুমোদন হলে হলগুলো সরাসরি এ সুবিধা পাবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ে নিয়মিত মিল না চালালে খাবারের মান উন্নয়ন কঠিন। হিটারে রান্নার কারণে বিদ্যুতের অপচয়ের পাশাপাশি শর্টসার্কিটের ঝুঁকিও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভর্তুকিসহ শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।











