আশুলিয়ায় ট্রিপল হত্যার কারণ জানাল পিবিআই
অনলাইন ডেস্ক : আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় আলোচিত ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রেম ও পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার ঢাকার পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান হৃদয় (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পিবিআই জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ ভবন থেকে নবজাতকসহ পোশাকশ্রমিক নাজমা ও তার স্বামী আলমগীর কবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভবনটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে।
তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে হৃদয়কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে নাজমার পার্স, সিমসহ মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়।
ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে পুরোনো সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে আলমগীর হৃদয়কে মারধর করেন এবং নাজমাও তাকে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করেন বলে জবানবন্দির বরাতে জানিয়েছে পিবিআই।
পুলিশের দাবি, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হৃদয়ের লাথিতে নাজমা মাটিতে পড়ে যান। পরে তিনি ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান।
স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যু দেখে আলমগীর ক্ষুব্ধ হয়ে হৃদয়কে খুন্তি ও পাইপ দিয়ে আঘাত করেন। এরপর দুজনের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে হৃদয় আলমগীরের মাথা ও শরীরে একাধিকবার আঘাত করলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
পিবিআইয়ের দাবি, পরে হৃদয় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর তিনটি মরদেহ খাটের ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।











