ভাইরাল হতেই প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করেন সিফাত: স্থানীয়রা
অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারসংশ্লিষ্টদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে আলোচনায় থাকা কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে তার গ্রেপ্তার ও ফেসবুক লাইভে করা মন্তব্য নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার চেষ্টা করেছিলেন সিফাত। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় সিফাতের পরিবারের বসবাস করা দ্বিতল ভবনে বেশ কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। বাড়িটিতে ফ্যান, লাইটের পাশাপাশি এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। সিফাত ফেসবুক লাইভে দাবি করেছিলেন, দুই মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের এক মাসে ৫ হাজার এবং পরের মাসে ৪ হাজার টাকা এসেছে।
এলাকাবাসীর মতে, বাড়ির আকার ও ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বিবেচনায় এমন বিল অস্বাভাবিক নয়। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সিফাত ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজক ভাষা ব্যবহার করে ভিডিও ছড়িয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বাদল বলেন, সিফাতের আচরণ তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার উদ্দেশ্যেই সিফাত এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন।
এদিকে সিফাত গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে তার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, কোনো দাবির পক্ষে আন্দোলন হলেও ভাষা শালীন হওয়া প্রয়োজন এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই প্রতিবাদ জানানো উচিত।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, সিফাতের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা করা হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় তিনি সরাসরি আসামি না হলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সিফাতের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকায় সংগঠনটির কয়েকটি ঝটিকা মিছিলেও তার অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারও বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সিফাতের যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।











