,

আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

news-image

অনলাইন ডেস্ক : আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল সেনা সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

১৯২০ সালে গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটিশ ভারতেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি পান এবং ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানা টালবাহানা ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন তিনি। এর কয়েক মাসের মধ্যেই ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু।

সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও নিহত হন।

একই দিনে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা হয়। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় আবদুল নঈম খান নিহত হন।

ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।