,

দুদকে নতুন কমিশন, যাচাই হচ্ছে ২৮ নাম

news-image

অনলাইন ডেস্ক : দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদে সম্ভাব্য ২৮ প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করছে। যাচাই শেষে সার্চ কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর তিনটি পদের বিপরীতে দুজন করে মোট ছয়জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকেই চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে।

নতুন কমিশন গঠনের জন্য গত ২২ জুন পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী এ সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তিনটি পদের প্রতিটির জন্য দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে। পরে রাষ্ট্রপতি ওই তালিকা থেকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেবেন।

গত ২ জুলাই সার্চ কমিটি চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে। ১৩ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করতে হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জমা পড়া জীবনবৃত্তান্ত থেকে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২৮ জনের নাম ধরে যাচাই চলছে।

এর আগে সার্চ কমিটির কাছে প্রায় ৪০ জনের জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নাম বেশি রয়েছে বলে জানা গেছে।

চেয়ারম্যান পদে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। সাবেক বিচারক, সাবেক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বর্তমানে রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন ব্যক্তিদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত ২ আগস্ট দুদকের নতুন সচিব হিসেবে যোগ দেন মো. সাইদুর রহমান। ওই সময় সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, কমিশন না থাকায় সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আটকে আছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা হবে। পরে জমে থাকা কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নেওয়া হবে।

নতুন কমিশন কবে দায়িত্ব নিতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চলতি আগস্টের মধ্যেই কমিশন দায়িত্ব নিতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সার্চ কমিটির কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন কমিশন দায়িত্ব নিতে পারে।

দুদক আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত হয় এবং তাদের মেয়াদ পাঁচ বছর।

এর আগে সর্বশেষ কমিশন শূন্য হওয়ার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ৩ মার্চ চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং দুই কমিশনার মো. জহুরুল হক ও আছিয়া খাতুন একসঙ্গে পদত্যাগ করেন। পরে ১০ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে ওই কমিশনও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে।

২০০৪ সালে দুদক প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। প্রথম কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। পরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় কমিশন দায়িত্ব নেয়। এরপর গোলাম রহমান, এম বদিউজ্জামান, ইকবাল মাহমুদ এবং মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পরবর্তী কমিশনগুলো দায়িত্ব পালন করে।

সপ্তম কমিশন ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে গঠিত হলেও গত মার্চে সেটিও পদত্যাগ করে। পরপর দুই কমিশন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করায় বর্তমানে দুদক কমিশনশূন্য। সার্চ কমিটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির নিয়োগের মাধ্যমে এই শূন্যতা কাটতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর