মার্কিন কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ও রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, আর্থিক খাত, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবসার জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বাড়ানো, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন, মুনাফা দেশে আনা-নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে সরকার কাজ করছে। সরকারি সেবাগুলো আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি বন্দর, অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও পরামর্শক সেবার মাধ্যমেও মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কথা বলেন।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার কাজ চলছে।
নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণে সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি নিজেও উপলব্ধি করেন।
মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সরকার শুনতে, দ্রুত সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হিসেবে দেখার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিনিধি দলটি এর আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাক্সেলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশাপ।










