বড় অঙ্কের নগদ টাকা পরিবহনে পুলিশের ‘মানি এসকর্ট’
অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীতে বড় অঙ্কের নগদ টাকা পরিবহনের সময় ছিনতাই ঠেকাতে ‘মানি এসকর্ট’ সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রাথমিকভাবে ফিলিং স্টেশন, স্বর্ণের দোকান ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ডিএমপির পক্ষ থেকে সব ক্রাইম জোনের উপকমিশনার (ডিসি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এ সেবা চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি থানার আওতাধীন ফিলিং স্টেশন, জুয়েলারি ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওসিরা আলোচনা করবেন। কোন প্রতিষ্ঠান কখন এবং কীভাবে পুলিশের সহায়তা নেবে, তা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
সম্প্রতি রাজধানীতে একটি ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে উত্তরা র্যাব-১ কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ছিনতাইকারী টাকা বহনকারী গাড়ির পথ আটকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার তিন দিন পরও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। টাকা উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তে একাধিক দল কাজ করছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে আগেই তথ্য পেয়েছিল ছিনতাইকারীরা।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিং স্টেশন, স্বর্ণের দোকান ও মানি এক্সচেঞ্জে প্রতিদিন বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের নগদ টাকা পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তা প্রয়োজন। সে কারণেই চাহিদার ভিত্তিতে পুলিশি এসকর্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি সঙ্গে রাখা, নিয়মিত একই পথে চলাচল না করা, নির্জন রাস্তা এড়িয়ে ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার এবং দিনের বেলায় অর্থ পরিবহনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে টাকা বহনের তথ্য আগেই যাতে অপরাধীদের কাছে না পৌঁছায়, সেদিকেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।











