,

২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

news-image

অনলাইন ডেস্ক : নতুন রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় বাংলাদেশ। গত ২৪ জুলাই মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফলে পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় এখন নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সবশেষ সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে

মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছেন। তারপরও ঘুরে-ফিরে বিএনপির যে কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে এ মুহূর্তে সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তিটি হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক সমীকরণে দল ও দলের বাইরে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বিএনপি মহাসচিবের নাম। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয়ভাবে এখনও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম নিয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের সময়কে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটি তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে।’

অবশ্য গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হচ্ছে; কিন্তু মহাসচিবকে এই বিষয়ে অবহিত করার পর তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না দলের পক্ষ থেকে তাকে কিছু বলা হয়নি।’

এদিকে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ফলে র্দীঘ তিন যুগ পর মনোনীত নয়; বরং এবার ভোটে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে একজনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু বিএনপি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই ক্ষমতাসীন দল যাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করবে, তিনিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ চোখে দেখলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান ব্যক্তির ক্ষমতা খুবই সীমিত হলেও, আছে অফুরন্ত ক্ষমতার কেন্দ্র। ফলে রাষ্ট্রপতি শুধু অলংকার নন, জাতির অভিভাবক, রাষ্ট্রের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। দেশের বড় সমস্যায়, সাংবিধানিক সংকটে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠেন ত্রাতা। একজন রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ধারা ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখার রক্ষাকবচ। যিনি আপন মহিমায় নেতা হয়ে ওঠেন, হন পথপ্রদর্শক। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে সবার কাছে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হবেন; তাকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা উচিত হবে।

সরকারের এক প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী আমাদের সময়কে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কে হবেন সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত; দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সেই দায়িত্ব দিয়েছেন। সংসদ সদস্যরা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন। তবে আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতি হচ্ছি না এটা কনফার্ম। তারপরও প্রথম কথা হলো এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কয়েকটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে আবার নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। একটি নির্বাচিত সরকার থেকে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর। এ সময়ে নানান ধরনের রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং বিভক্তি মাথাচাড়া দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য ও সংঘাত সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিত্ববান, দৃঢ়চিত্ত একজন রাষ্ট্রপতি থাকলে সহজেই সংকট উত্তরণ সম্ভব। সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতির কাছে সব পক্ষ তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সব রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। গত বছরের এপ্রিলে ঐকমত্য কমিশনে বিএনপিও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সম্মতি দিয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে সরকারি দল সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করবে। সংবিধান সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। এতে পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতিকে এককভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তাই রাষ্ট্রপতি পদে একজন অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।’

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় প্রথম নামটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নতুন কোনো নাম সামনে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটার অংশ নেন না। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার হাতে থাকে, সাধারণত তার মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর যদি একজন বৈধ প্রার্থীই থাকেন, তাহলে ভোট ছাড়াই তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ১৮ আগস্টই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে। তবে তার আগে আগামী ১৩ আগস্টেই জানা যাবে কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। কারণ ওই দিন বিএনপির পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন।

প্রসঙ্গত ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। দেশের বর্ষীয়ান নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এ নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে মরহুম এইচএম এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

মির্জা ফখরুলও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

কোকোর জন্মদিনে কবর জিয়ারত ও আলোচনা সভা

বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থান ২৭

বিমানবন্দরে আগুন, তদন্তে বারবার অব্যবস্থাপনার চিত্র

মির্জা আব্বাস কবে ফিরবেন সংসদে, চট্টগ্রাম-৪ আসনে কী হবে

৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি

হাসিনা ও হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যার্পনের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন

প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশকে বিচার করতে নারাজ হেড

৩১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন মেসি

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি

রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুন, নিহত ১৬ বাংলাদেশি

পাস ও জিপিএ-৫—দুই ফলেই এগিয়ে মেয়েরা