মির্জা আব্বাস কবে ফিরবেন সংসদে, চট্টগ্রাম-৪ আসনে কী হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক : অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন সংসদে অনুপস্থিত বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস কবে সংসদে ফিরবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে সংসদ সদস্যপদ নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ জানিয়েছেন, আপাতত তার আসন শূন্য ঘোষণার কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য একটানা ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সংবিধান অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা এখনো পার হয়নি। অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতির বিষয়টি স্পিকারের বিবেচনার এখতিয়ারেও রয়েছে।
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। প্রথমে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এরপর সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও তিনি এতে অংশ নিতে পারেননি।
চিফ হুইপের ভাষ্য, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি শিগগির সংসদে যোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবিধানের ৬৭(১) অনুযায়ী, সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য টানা ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্পিকারের অনুমতি বা যথাযথ কারণ বিবেচিত হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে।
এর আগে ২৩ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও সংসদে যোগদানের বিষয়ে জানতে চান পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তখন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, মির্জা আব্বাস সংসদকে চিঠি দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছেন এবং সুস্থ হলে সংসদে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।
গত ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে জয়ী হন মির্জা আব্বাস। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১২ মার্চ শুরু হয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, যা ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।
এদিকে মির্জা আব্বাসের বিষয়টির পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৪ আসন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগে ওই আসনে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এখন ওই আসনে নতুন করে নির্বাচন হবে, নাকি নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনো কমিশনের হাতে পৌঁছেনি। ইসি সচিব আখতার আহমেদও বলেছেন, রায় পাওয়ার পর আইনগত দিক পর্যালোচনা করে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের মতে, কোনো নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী পরবর্তীতে অযোগ্য প্রমাণিত হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে কোনো বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের মতে, আসলাম চৌধুরীর বর্তমান অযোগ্যতা স্থায়ী নয়। ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনরায় নির্বাচন হলে আইনগতভাবে যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে তিনি আবারও প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনি পরিস্থিতির ওপর।
চট্টগ্রাম-৪ আসন নিয়ে মামলাটি শুরু হয়েছিল নির্বাচনের আগেই। জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী আসলাম চৌধুরীর ঋণখেলাপি অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করেন। নির্বাচনের আগে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ওপর স্থগিতাদেশ ছিল।
পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী জয়ী হন এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান আনোয়ার সিদ্দিকী। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে আসনটির চূড়ান্ত ফল আটকে থাকে। পরে ৩০ জুন আপিল বিভাগ ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয়। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের পরই চট্টগ্রাম-৪ আসনের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।











